বিএনপি আসন্ন ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিবে কি-না তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে দলের ভেতর-বাইরে। এর মধ্যে মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করছেন দলের কোন কোন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী। তবে শেষ পর্যন্ত কি হবে তা শিগগিরই জানা যাবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এজন্য করণীয় নির্ধারণে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন দলের হাইকমান্ড।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।
স্থায়ী কমিটির সদস্য লে: জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, যারা নির্বাচন করবে, সেই নেতাকর্মী সবাই তো এখন জেলে। অথবা আত্মগোপনে। বের হলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। আস্থার একটি পরিবেশ তৈরি হলেই কেবল নির্বাচনের কথা ভাববে বিএনপি। কিছু শর্ত মানলে সিটি নির্বাচনেও অংশ নিবে বিএনপি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমদ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর নেতৃত্বে কয়েকজন বুদ্ধিজীবী খালেদা জিয়ার সঙ্গে গত শুক্রবার সাক্ষাত্ করে নির্বাচনে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেদিন বেগম জিয়া নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে ইতিবাচক মন্তব্য করেন।
এদিকে গুলশান অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত চারদিন বেগম জিয়ার সঙ্গে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি সমর্থক পেশাজীবীরা টেলিফোনে সিটি নির্বাচন এবং আন্দোলন প্রসঙ্গে কথা বলেন। তাদের অনেকেই নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন। আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিএনপি নীতিগতভাবে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, সে বিষয়ে বিএনপি’র সন্দেহ রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে যেতে পারেন। অথবা চিঠির মাধ্যমে কমিশনের কাছে দলের পক্ষ থেকে কিছু দাবি পেশ করা হতে পারে। সম্ভাব্য এসব দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার, সেনা মোতায়েন, বিদেশি পর্যবেক্ষক আমন্ত্রণ, নির্বিঘ্নে গণসংযোগ করার সুযোগ সৃষ্টি করা, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা, গ্রেফতার-হয়রানি বন্ধ করা, গ্রেফতারকৃত সম্ভাব্য প্রার্থীদের মুক্তি দেয়া, চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় ও নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ সৃষ্টি করা। এছাড়া ঘোষিত তফসিল পেছানোর দাবিও করা হতে পারে বিএনপির পক্ষে থেকে।