খালেদা জিয়ার দুর্নীতির ৩ মামলা সচলের উদ্যোগ

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৫, ২৩:৪৬

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে স্থগিত হওয়া দুর্নীতির তিনটি মামলা সচল হচ্ছে। উচ্চ আদালতে স্থগিত থাকা এসব মামলার বিচার শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশন মামলার কার্যক্রম সচলের জন্য উচ্চ আদালতে রুল শুনানির উদ্যোগ নিয়েছে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বড়পকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা বাতিল প্রশ্নে জারিকৃত রুলের ওপর রায়ের জন্য আগামী ৫ এপ্রিল দিন ধার্য রেখেছে হাইকোর্ট। ২০০৮ সালে খালেদা জিয়ার এক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলাটি কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করে।

এদিকে, গ্যাটকো ও নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুর জন্য দুদকের আবেদন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি অবকাশ শেষে এ আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হতে পারে। মামলা দুটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর রুল জারি করেছিলো হাইকোর্ট। পাশাপাশি মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন ইত্তেফাককে বলেন, দুদক রাজনৈতিকভাবে সরকারকে সাহায্যের উদ্দেশে খালেদা জিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই দীর্ঘ সাত বছর পর স্থগিত থাকা মামলাগুলোর রুল শুনানির উদ্যোগ নিয়েছে। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ‘মাইনাস টু থিওরি পলিসি’ বাস্তবায়নের জন্য এইসব মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। দীর্ঘ সাত বছর পর মামলা শুনানির কেন উদ্যোগ নিয়েছে দুদক? দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রুল শুনানি করা হলে জনমনে ভুল ধারণার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে শত-শত কোটি টাকার অনেক দুর্নীতির মামলা রয়েছে। সেগুলো বিচারের উদ্যোগ না নিয়ে শুধুমাত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মামলা সচলে দুদকের উত্সাহ লক্ষ্য করছি। আমরা মনে করি এতে দুদক সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যা ন্যায় বিচারের পরিপন্থি। এতে দুর্নীতি কমবে না বরং বৃদ্ধি পাবে।
তবে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। এসব মামলা যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দাখিল করা হয়েছে। হাইকোর্ট যে রায় দিবে আমরা সেই মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণ করব।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫টি দুর্নীতির মামলা দায়ের করেছে দুদক। এসব মামলায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, চার দলীয় জোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীরা আসামি হিসেবে রয়েছেন। 
জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সংক্রান্ত মামলা দুটি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বিগত মহাজোট সরকারের আমলে দায়ের করা হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুদক দায়ের করে গ্যাটকো, নাইকো ও বড়পকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা।
২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত বড়পকুরিয়া কয়লা খনি মামলার এজাহারে বলা হয়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম করে রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি ও আত্মসাত্ করা হয়। 
২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর মতিঝিল থানায় করা গ্যাটকো মামলায় চট্টগ্রাম ও কমলাপুরের কনটেইনার টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য মেসার্স গ্লোবাল অ্যাগ্রো ট্রেড কোম্পানি লিমিটেডকে (গ্যাটকো) ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রের কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।
কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে দুদক ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে।
ওই সময় এই তিনটি মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে।
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বড়পকুরিয়া কয়লা খনি মামলা বাতিল প্রশ্নে জারিকৃত রুল শুনানির জন্য বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করা হয়। দুদক কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল শুনানির জন্য তা কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। গত ৫ মার্চ দুদকের আইনজীবী রুলের ওপর শুনানি করেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা ওইদিন আদালতে যাননি। শুনানি শেষে ১০ মার্চ এ রুলের ওপর রায়ের জন্য দিন ধার্য রাখে আদালত। তবে রায় ঘোষণার দিন আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাজির হয়ে সময় চান। আদালত সময় মঞ্জুর করে ১৫ মার্চ পুনরায় রায় প্রদানের জন্য ধার্য রাখে। কিন্তু ওইদিন ছিলো সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সভাপতি ও সম্পাদক প্রার্থী। তারা আদালতে হাজির থাকতে পারবেন না মর্মে খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী সময় চাইলে আদালত তা আমলে নেয়।
বিচার চলছে দুটি মামলার

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এ চলছে এ মামলার কার্যক্রম। আদালতে হাজির না হওয়ায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ওই আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার।