‘সিরাজ ভাইকে কখনও রাগতে দেখিনি’

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৫, ০১:৩৪

সিরাজুল ইসলাম সম্পর্কে আমার ভগ্নিপতি। অনেকদিন অসুস্থ ছিলেন। গতকাল সকাল ৯টায় যখন জানলাম তখন কেমন যেন এক ধাক্কার মতো লাগলো। বৃদ্ধজীবনের শঙ্কা বুঝি সবারই। তবু এই হাসি-খুশি মানুষটি চলে যাবে! বিশ্বাস হচ্ছে না। জানাযায় গেলাম। বনানীতে তার দাফন হলো। আমরাই জানি ওনার ব্যক্তিজীবনের কতটা অভিমান ছিল। শেষ বয়সে এসে সহযোগিতা পাননি তেমন। আসলে গুণি শিল্পীদের আমরা সম্মান কতটুকুই বা দেই। নিজের আত্মীয় বলে বলছি না, তিনি আমার সহ-অভিনেতা ছিলেন। আমার পরিচালনায়ও অনেক কাজ করেছেন। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি কতটা ডেডিকেট ছিলেন বলে বোঝানো যাবে না। সেট, লাইট-এর কাছে এলেই কি এক মোহনীয় শক্তিতে অন্য সকল রোগ ভুলে যেতেন। তাকে কখনও রাগ বা উত্তেজিত হতে দেখিনি আমি। অগণিত কাজ করেছি একসাথে। একজন আদর্শ মানুষের যা যা থাকা দরকার তার সব গুণই ছিল ওনার ভেতর। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি কবিতা লিখতেন। নাটক প্রযোজনা করেছেন। তার প্রথম প্রযোজনা ছিল ‘বৃষ্টি’। এ নাটকটি নির্মাণ করা হয়েছিল একটি ইংরেজি গল্পের অনুবাদ করে। তার এই দীর্ঘ জীবনে শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৮৫ সালে ‘চন্দ্রকথা’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কারও পান সিরাজুল ইসলাম। আমি মনে করি অনেক আগেই তার সকল পুরস্কার ঘরে ওঠা উচিত ছিল। কিন্তু যতটুকু সম্মানের জায়গা মানুষটির পাবার কথা ছিল সেই জায়গাটা তিনি পাননি।

মারা যাবার পর হলেও তাকে সম্মানটা অন্তত দেয়া হোক। অনেক সংগ্রামী জীবন ছিল মানুষটির। ‘রাজা এলো শহরে’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। এরপর তিনি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছেন। অনেক অভিজ্ঞতা ও গুণ ছিল মানুষটির।
বেঁচে থাকতে তার স্ত্রীর কথা অনেক বলতেন। জীবন সঙ্গীকে তার জীবনের অনেক বড় এক সাপোর্ট মনে করতেন। তিনি বলতেন, ‘মারুফা আমার কোনো কাজে কোনোদিন বাঁধা দেয়নি। সেই গুণটি আমার সন্তানদের মাঝেও আছে। আমাকে চিরকাল স্বাধীন রেখেছে তারা। আমার কাজের প্রতি তাদের সম্মানবোধ ছিল চিরদিন।’
সেই মানুষটি আর নেই। এটিই নিয়ম। সে যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুক।
লেখক: অভিনেতা ও পরিচালক

গতকাল সকাল নয়টায় তিনি ঢাকার নিকেতনস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। গতকাল বাদ আছর নিকেতন জামে মসজিদে নামাজে জানাজার পর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সিরাজুল ইসলামের জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৫ মে পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায়।