অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম নিউজিল্যান্ডের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে যাওয়াটিকে ‘অবিশ্বাস্য যাত্রা’ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছেন তার খেলোয়াড়রা তাদের জীবনের সেরা সময়ের দেখা পেয়েছেন।
নিউজিল্যান্ড গতকাল মঙ্গলবার অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চার উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে। এরপরই অধিনায়ক ও মারকুটে ব্যাটসম্যান ম্যাককালাম বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি খেলোয়াড় হিসেবে এটা হলো আমাদের জীবনের সবচেয়ে অনির্বাচনীয় মুহূর্ত। আমরা অভিজ্ঞতাটা উপভোগ করছি, পুরোটা পরিক্রমা অসাধারণ, নিউজিল্যান্ডে এ দলটিকে সমর্থন জানাতে আসা দর্শকরা, আমরা যে ধরনের ক্রিকেট খেলছি তা, সবই দুর্দান্ত।’ তিনি বলেন, ‘আশা করছি তারা সবাই আমাদের মতোই স্বপ্নাতুর হয়ে আছে, কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা বড় একটা উপলক্ষ পেয়েছি, আশা করি এটা (বিশ্বকাপ) জেতা দারুণ হবে।’
জয়ের জন্য বৃষ্টি আইনে পরিবর্তিত লক্ষ্য ৪৩ ওভারে ২৯৮ রান পেয়ে নিউজিল্যান্ড কাল এক বল থাকতেই তা ছাড়িয়ে যায়। ম্যাককালাম জানান, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের সময় বৃষ্টির বাধাটাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। বৃষ্টির কারণে খেলা প্রায় দুই ঘন্টা বন্ধ ছিল। বৃষ্টির কারণে খেলোয়াড়রা যখন মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সেই সময় দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৮ ওভারে তিন উইকেটে ২১৬ রান করেছিল। সেসময় ফ্যাপ ডু প্লেসিস ও এবি ডি ভিলিয়ার্স শতরানের পার্টনারশিপ গড়ে ফেলেছেন। এ সময় নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের মাথায় কি ভাবনা ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি পড়তে থাকুক। তারা দারুণভাবেই ভিত গড়ে দিচ্ছিল, তারা দুজনেই ছিলেন ক্রিজে স্থিত ব্যাটসম্যান, দুজন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি তখনো ইনিংসটি নিয়ে ভাবছিলাম। আমার মনে হয়েছিল যে, আমরা যেভাবে ফিল্ডিং দিচ্ছিলাম, আমরা যেভাবে বল করছিলাম, আমার মনে হয়েছিল আমরাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছিলাম। কখনো কখনো আপনাকে এমনসব মানুষদের মুখোমুখি হতে হয় যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেটাই তারা করছিল এবং আমরা জানতাম আমাদের সেখানে লড়ে যেতে হবে। এমনকি ব্যাট হাতে আমরাও যতক্ষণ লড়ে যাব শেষদিকে আমাদেরও সুযোগ থাকবে।’
গ্র্যান্ট এলিয়টকে প্রশংসায় ভাসান তিনি। ম্যাককালাম বলেন, ‘কি দারুণ ইনিংস গ্র্যান্ট এলিয়টের। সেমিফাইনালে সে স্রেফ একটা ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেললো এবং সে ও কোরি অ্যান্ডারসনের ইনিংস ও অন্য খেলোয়াড়দের অবদানগুলো দারুণ কৃতিত্বের ব্যাপার।’ অধিনায়ক অবশ্য নিজের ২৬ বলে তোলা ৫৯ রানকে বড় করে দেখাতে চাননি। তার মতে, এসব হলো খুচরো ব্যাপার। বিশেষ করে যখন গ্র্যান্ট এরকম একটা ইনিংস খেলে। আমাদের শুধু রানের তাড়ায় শুরুর দিকে রান রেট দ্রুত করতে কিছুটা ভূমিকা রাখতে হয়েছিল।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ফাইনালে ভারত না অস্ট্রেলিয়া এ নিয়ে তার কোন বাছবিচার নেই। বরং তার দল যে কাউকেই হারাতে চেষ্টা চালাবে।