সেচের অভাবে ধুঁকছে ১৭ চা বাগান

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৫, ১৪:০৬
খরার কারণে ফটিকছড়ির চা বাগানগুলোতে উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে। আগামী ১০-১৫ দিন এভাবে অনাবৃষ্টি থাকলে বাগানের চা গাছগুলোই শুকিয়ে মরে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। জানা গেছে, উপজেলার ১৭টি চা বাগানে এ বছর উত্পাদন হয়েছে ৬৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫২ কেজি। গেল বছর উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ৬৫ লাখ ৬০ হাজার ৩০১ কেজি। এ বছর দুই লাখ ১৩ হাজার ৩৪৯ কেজি চা কম উত্পাদন হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩.২৫ শতাংশ কম।
এদিকে উত্পাদন কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে চা রপ্তানি করাও অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। অব্যাহত খরার কারণেই মূলত উত্পাদনে ধস নেমেছে বলে জানান চা সংসদ চট্টগ্রাম অঞ্চলের চেয়ারম্যান ও ফটিকছড়ির আছিয়া চা বাগানের ম্যানেজার মমতাজুল হাসান। উদালিয়া চা বাগানের ম্যানেজার শাহাব উল্লাহ সরকার জানান, গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সামান্য বৃষ্টি হলেও এবছর হয়নি। এতে উত্পাদন নেমে আসা ছাড়াও কমবয়সী চা গাছগুলোর মরো মরো অবস্থা হয়েছে। নার্সারির চারাও শুকিয়ে যাচ্ছে। 
নেপচুন চা বাগানের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কাজী আরফান উল্লাহ জানান, বৃষ্টির কারণে চা উত্পাদনে চট্টগ্রাম অঞ্চল সব সময় সিলেটের চেয়ে পিছিয়ে থাকে। সিলেটে ইতিমধ্যে বৃষ্টি হলেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে এখনও দেখা নেই। তিনি বলেন, এখন উত্পাদনের চিন্তার চেয়ে বাগানের গাছগুলোর জীবন বাঁচানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে ভয়াবহ অবস্থা হবে বাগানগুলোর। এ অবস্থায় খরা, অনাবৃষ্টি মোকাবেলার জন্য প্রতিটি বাগানে স্থায়ী সেচ ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। আর এ সেচ ব্যবস্থা করতে না পারলে চা চাষ বাদ দিতে হবে।