ভুমি উন্নয়নের নামে ১ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ‘মসজিদ সমাজ বাংলাদেশের’ সভাপতি ও সম্পাদক চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুদকের উপপরিচালক মো. তালেবুর রহমান বাদি হয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন—মসজিদ সমাজ বাংলাদেশের সভাপতি নুরুল ইসলাম গাজী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আয়ুবুর রহমান, প্রাক্তন সভাপতি সালাহ উদ্দিন আহমেদ জোহা ও যুগ্ম সম্পাদক দেওয়ান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে—মসজিদ সমাজ বাংলাদেশ সমাজ সেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধনকৃত একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ থেকে ১৯৮২ সালে একটি জায়গা বরাদ্দ নেয়। পরবর্তীতে জমির উন্নয়ন কাজের জন্য মেসার্স গ্রিণ ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও সিটি ডুয়েলিং লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতিসহ কর্মকর্তারা। চুক্তির আলোকে ২০০৭ ও ২০০৮ সালের বিভিন্ন সময়ে এ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ২৩ লাখ টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ও আমমোক্তারনামা দলিল বাতিল না করেই ২০০৮ সালের শেষ দিকে আবার সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফ্ল্যাট নির্মাণের চুক্তি করে মসজিদ সমাজ বাংলাদেশ। নতুন চুক্তির আলোকে ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের বিভিন্ন সময়ে মসজিদ সমাজের সেক্রটারি ও সভাপতি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড থেকে ২ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে স্থগিত হয়ে যায় ভূমির উন্নয়নকাজ।
দুদকের অনুসন্ধানেও দেখা যায়—উভয় প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া টাকার মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক প্লটকে আবাসিক প্লটে রূপান্তর করতে। বাকি ১ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই দুদক দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬/১০৯ ধারায় এ মামলা করেছে।
