পরিচিতরা রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কলাপট্টিতে পুলিশের সাবেক কর্মকর্তার স্ত্রী রওশন আরা ও গৃহকর্মীর মেয়ে কল্পনাকে গলা কেটে হত্যা করেছে। ঘটনার আগে ঐসব পরিচিত ব্যক্তি একাধিকবার ঐ বাসায় গিয়েছিল। তবে খুনের সঙ্গে কোন পারিবারিক বিরোধ জড়িত কিনা তা পুলিশ তদন্তে নিশ্চিত হতে পারেনি।
এই ঘটনায় নিহত রওশন আরার ছোট ভাই মোজাম্মেল হোসেন বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় অজ্ঞাত কয়েকজন দুর্বৃত্তকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাঈদ হাওলাদার নামে একজনকে আটক করেছে। তার পকেট থেকে পুলিশ বেশ কিছু টাকা ও কয়েকটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করেছে। পুলিশ ধারণা করছে, ঐ টাকা ও স্বর্ণের চেইন নিহত রওশন আরার বাড়ি থেকে লুট করেছে।
এদিকে, বুধবার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়না তদন্ত শেষে রওশন আরার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মোজাম্মেল হোসেন জানান, লাশ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে। আমেরিকা ও কানাডা থেকে তার সন্তানরা দেশে ফেরার পর লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি অবণী শংকর কর জানান, এ ঘটনায় সাঈদ হাওলাদার নামে এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর শাহাজানপুর রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
তিনি আরো জানান, রেলওয়ে কলোনির একটি গ্যারেজে সাঈদ কাজ করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্যারেজে কাজে যোগ দেয়ার পর তার মন খারাপ দেখাচ্ছিল। সহকর্মীরা তার সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে পকেটে নগদ বেশ কিছু টাকা ও সোনার চেইন পেয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ জানান, বেশ কয়েকটি দিক মাথায় রেখে এই জোড়া খুনের তদন্ত কাজ চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত খুনের কারণ শনাক্তের কাজ অনেক অগ্রগতি হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে এই জোড়া খুন শনাক্ত হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৫৬, উত্তর যাত্রাবাড়ীর বাড়ি থেকে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী রওশন আরা (৬৫) ও তার গৃহকর্মী লাকির মেয়ে কল্পনার (১১) গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
