শত নাগরিক কমিটির ছয় প্রস্তাব

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৫, ২১:৫৬
 
সিইসি’র কাছে লিখিতভাবে দেয়া ‘শত নাগরিক কমিটি’-এর প্রশ্নআকারের ৬টি প্রস্তাবের  ভূমিকাতে বলা হয় দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলাকালে হঠাৎ করে  ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার কারণ নাগরিকদের কাছে দুর্বোধ্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হলেও আমরা জানি যে, বিভিন্ন দল সমর্থক প্রার্থীরা এসব নির্বাচনে অংশ নেয় এবং দল সমর্থক ভোটাররা উত্সাহ উদ্দীপনা নিয়ে এসব নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকেন। এবার পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন বিধায় দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা বিধানের অনুরোধ জানাতে চাই।  
 
জাতীয়তাবাদী সমর্থক সংগঠন ‘শত নাগরিক’ এর একটি প্রতিনিধি দল গতকাল সাড়ে ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দেখা করেছেন।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যর প্রতিনিধি দল সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের কাছে  ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।
 
জাতীয়তাবাদী পরামর্শক  হিসেবে পরিচিত এসব নাগরিকের  প্রশ্ন- (ক) ঢাকা (উত্তর), ঢাকা (দক্ষিণ) ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ গ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীদের অনেকই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়ে গ্রেফতারকৃত কিংবা তারা গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়ে আছেন।
 
এই সাম্ভাব্য প্রার্থীরা যাতে অন্য প্রার্থীদের মতো মুক্ত অবস্থায় প্রকাশ্যে ও নিরাপদে নির্বাচন কার্যক্রম চালাতে পারেন সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কি ভূমিকা পালন করবে?
 
(খ) একই ভাবে প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর জন্য যারা দায়িত্ব প্রাপ্ত হবেন-তাদের কেউ মিথ্যা মামলায় কারাগারে আবদ্ধ থাকলে কিংবা গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়ে থাকলে তারা যাতে নির্বিঘ্নে শান্তিপুর্ণ নির্বাচনী কার্যকমে অংশ নিতে পারেন সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কি ভূমিকা পালন করবে?
 
(গ) সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীদের  বিশেষ সুবিধা দিতে অ্যনান্য প্রার্থীদের কিংবা তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত নেতা-কর্মীদের মিথ্যা অভিযোগে আটক করার কিংবা গা ঢাকা দিয়ে থাকতে বাধ্য করার প্রশাসনিক অপপ্রয়াস রোধে নির্বাচন কমিশন কি ব্যবস্থা নেবে?
 
(ঘ) অস্ত্র কিংবা পেশীশক্তির প্রয়োগ কার্যকর ভাবে রোধ করার মাধ্যমে নির্বাচনকে শান্তিপুর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কি ব্যবস্থা নেবে?
 
(ঙ) নির্বাচনে প্রচারকর্মী ও পোলিং এজেন্টদের জীবন ও সম্ভ্রমের নিরাপতদা নিশ্চিত করার এবং নির্ভয়ে ও নিশ্বিন্তে তাদের দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্বাচন কমিশন কি ব্যবস্থা নেবে?
 
(চ) সময়ের স্বল্পতা বিবেচনায় নিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে মনোনয়নপত্র জমা দানের সময় দুই/তিন দিন বৃদ্ধি করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে কি না?
 
এই ছয়টি প্রশ্ন শেষে বলা হয়, আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ্য বিবৃতি এবং তা বাস্তবায়নের আন্তরিকতা প্রত্যাশা করছি।
 
  আপনাদের এসব প্রশ্নের  বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পেয়েছেন কি না- জানতে চাইলে প্রতিনিধি দলের নেতা অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো বিষয়ে সিইসি উত্তর দেননি। তিনি আমাদের কথা শুনেছেন। সামগ্রিক বিষয়ে সিইসি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি তার সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।’
 
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তাঁরা বিএনপির পক্ষ থেকে নন, শত নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে এসেছেন। বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা দল সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা চাই, সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। সৎ ও যোগ্য প্রার্থী পেলে আমরা সমর্থন দেব।’
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বাড়ানোর দাবির বিষয়ে এমাজউদ্দীন বলেন, ‘সময় বাড়ানোর দাবিটি মুখ্য নয়। তবে সার্বিক বিষয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই নির্বাচনের সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইসির।’
 
ড. জাফরুল্লাহ চৌধূরী বলেন, নির্বাচিত মেয়র বা জনপ্রতিনিধিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সরকারি সিদ্ধান্তে বরখাস্ত করার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু জনগণ যাঁকে নির্বাচিত করবে তাকে অপসারণের ক্ষমতা জনগণেরই থাকা দরকার।  এই সমস্যার  বিষয়টিও আমরা সিইসির সাথে আলোচনা করেছি।
 
বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে কি না- জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘বিএনপি বা ২০ দল নির্বাচনে যাবে কি না, কাকে সমর্থন দেবে, তা দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত হবে। শত নাগরিক কমিটি সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সমান ক্ষেত্র) তৈরির দাবি জানাচ্ছে। তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসিকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সিইসি আমাদের বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে নিয়ে সাধ্যমতো চেষ্টার করবেন বলে জানিয়েছেন।