আন্দোলনের নামে গণহত্যা প্রতিহতের শপথ

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৫, ০১:৫৬

বিএনপি জোটের আন্দোলনের নামে গণহত্যা প্রতিহত করার শপথ এবং একাত্তরের ২৫শে মার্চের সেই ভয়াল কালরাতে শহীদদের স্মরণে মশাল প্রজ্বলন, আলোর মিছিল, স্মরণসভা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও বিভীষিকাময় কালরাতের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার দিনটি স্মরণ করা হয়। রাতে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মানবাধিকার সম্পর্কিত সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (এপিপিজি) ও নতুন প্রজন্মের হাতের মশাল আর হাজারো প্রজ্বলিত মোম থেকে ছড়িয়ে পড়া আলোতে আলোকিত হয়ে উঠেছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা। আলোর মিছিল নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

২৫ মার্চ স্মরণে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো এ ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি। অনুষ্ঠানে আসা মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তরের রণাঙ্গনের সেক্টর কমান্ডার, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক রাজনীতিক, শহীদ পরিবারের সদস্য ও নতুন প্রজন্মের প্রতিটি সদস্যের মুখে ছিল অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন ও রায় কার্যকর, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ, আন্দোলনের নামে সহিংসতা প্রতিহত এবং স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ও প্রগতিবিরোধী অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙে মুক্তিযুদ্ধের আলো সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার অঙ্গীকার।
আলোর মিছিলের পূর্বে রাত ৮টায় এপিপিজি’র উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ডা. দীপু মনি, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম, যুব ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এপিপিজি’র সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল, আবু জাহের, সানজিদা খানম, বেগম লুত্ফা তাহের, পংকজ নাথ, জেবুন্নেছা আফরোজ, রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, বেগম কাজী রোজী, শিরিন নাঈম, শিশির শীল প্রমুখ। বক্তারা ২৫শে মার্চ কালরাতে সংঘটিত গণহত্যাকে ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করা ও বিশ্বব্যাপী পালনের আহ্বান জানান। 

এদিকে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে গণসমাধিতে মোতবাতি প্রজ্বলন, আলোচনা সভা ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়। জগন্নাথ হল কর্তৃপক্ষ এই দিনে শহীদদের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এছাড়াও ছাত্রলীগের উদ্যোগে আলোর মিছিল বের করা হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া এ মিছিলটি  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে গিয়ে  শেষ হয়।