জেপি’র স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা

একসঙ্গে দুই খেলা খেলবেন না, খালেদার প্রতি নাসিম

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৫, ১০:২৩
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সমন্বয়ক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে শুনছি বেগম জিয়ার দল নাকি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আসবে। খালেদা জিয়াকে বলব— যে কোনো একদিকে যান। রাজনীতিতে ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ (দ্বৈত অবস্থান) নীতি যারা নেয়, তারা হারিয়ে যায়। আপনি কি ব্যর্থ অবরোধ-হরতালের আন্দোলন ও মানুষ পুড়িয়ে মারার কর্মকাণ্ডে থাকবেন, নাকি সিটি নির্বাচনে আসবেন—  সেই হিসাব-নিকাশ করুন। যদি নির্বাচন করতে চান, তাহলে আগে বলুন পেট্রোল বোমায় মানুষ পুড়িয়ে মেরে ভুল করেছেন, জনগণের কাছে ক্ষমা চান। কারণ একসঙ্গে দুই খেলা চলতে পারে না।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় পার্টি (জেপি) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, আপনার সামনে এখন একটিই পথ— সিটি নির্বাচনে আসা। ২০১৯ সালেও আপনাকে শেখ হাসিনার অধীনেই সংসদ নির্বাচনে আসতে হবে। তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র ও নির্বাচনে বিশ্বাস করি। সে কারণে সম্ভবত একটি নির্বাচন ছাড়া আর সব নির্বাচনেই গেছে আওয়ামী লীগ। হয়তো হেরেছি, তারপরও সামরিক শাসনামলেও আমরা নির্বাচনে গিয়েছি। কারণ গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উপাদান হলো নির্বাচন।
আলোচনা সভার সভাপতি জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমাদের  স্বাধীনতা নিয়ে এখন কোনো প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। আমরা ২৩ বছর পাকিস্তান ছিলাম। ওই সময় আমাদের ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাটও ছিল না। এখন যদি আমরা আমাদের স্বাধীনতার অর্জন বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখব—এখন আমাদের ৬৪ জেলা, ৪৮২ উপজেলা ও ৪৩ হাজার গ্রাম রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত। আমাদের জীবনমানেরও উন্নতি হয়েছে। আমাদের পাশের দেশে এখনও ভুখা-নাঙ্গা মানুষ দেখা গেলেও বাংলাদেশে দেখা যায় না। সুতরাং আমাদের সবার উচিত এখন দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত থাকা। গণতান্ত্রিক দেশ গঠনের দিকেই আমাদের এখন অগ্রসর হতে হবে।
জেপি চেয়ারম্যান বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে। পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন সঠিক ছিল কি না, এ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু খেলায় একটি দল অংশ না নিলে প্রতিপক্ষ ‘ওয়াকওভার’ পাবে, এটিই খেলার নিয়ম। বিদেশি বন্ধুরাও এখন বলছেন, যা হওয়ার হয়ে গেছে—সামনের দিনগুলোতে কী করা যায় এখন সেটিই সবাইকে ভাবতে হবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরও বলেন, পাঁচ জানুয়ারির আগ পর্যন্ত দেশ শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার লক্ষ্যে হঠাত্ বিপজ্জনকভাবে পরিস্থিতি অশান্ত করা হলো। ব্যর্থ করতে না পারলেও বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে যেন দাঁড়াতে না পারে, তাদের সেই পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতায় তা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন, স্বাধীনতার সুফল যেন সবাই পায়। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, যেন দেশে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অটুট থাকে।
আলোচনা সভায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, দেশ আজ দু’ভাগে বিভক্ত। একদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক উন্নত রাষ্ট্র গড়ার সংগ্রাম। আরেকদিকে খালেদা জিয়ার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের রাজনীতি। যারা হত্যা-ক্যুর রাজনীতি লালন করে, সেই রাজনীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সবাইকে সাহস করে দাঁড়াতে হবে।
জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, আমাদের স্বাধীনতায় যারা খুশি হতে পারেনি তারাই দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অর্জন অনেক, শুধু রাজনৈতিক কারণে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও জবাবদিহিহীনতার বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ, কর্নেল (অব.) আব্দুল লতিফ মল্লিক, এজাজ আহমেদ মুক্তা, যুব সংহতির সভাপতি এম এ কাইয়ূম, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।