সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপির জোটের আন্দোলনকে তামাসার আন্দোলন আখ্যা দিয়ে বলেছেন, বিএনপির এ আন্দোলনকে আন্দোলন বলে না। দেশের মানুষের কাছে এটি তামাসার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তাদের এ তামাসা ঢাকতেই তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে তামাসার নির্বাচন বলছে। তামাসার নির্বাচন বলেও শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সরকার সিটি কর্পোরেশনে তামাসার নির্বাচন কববে না। সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে। নির্বাচনে সরকার বাধা দেবেনা। কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করবেনা। সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। আগেও আওয়ামী লীগ পরপর পাঁচটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করেছে। সে নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিত সৌধে জাতীয় দিবসের শ্রদ্ধা নিবেদন করে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ সব কথা বলেন।
মন্ত্রী অভিযোগ করেন বিএনপি জামায়াতের আন্দোলন গণ আন্দোলন নয়, গণহত্যা। তারা হরতাল অবরোধ দিচ্ছে। দেশবাসী তা মানছে না। এরমধ্যেই তারা চোরাগোপ্তা হামলা করে পেট্রোল বোমা ছুড়ছে। ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। পুড়িয়ে মানুষ মারছে। পৃথিবীর কোন দেশেই চোরা গোপ্তা হামলা করে সরকারের পতন ঘটানো যায়নি। সরকারের পতন হয় নির্বাচন বা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। এ দেশে ১৯৬৯ সালে অভ্যুত্থান হয়েছে। ৯০ সালে গণ আন্দোলন হয়েছে। বিএনপির গণ আন্দোলন করতে ব্যর্থ হয়েই গণ হত্যা করছে। বোমাবাজদের কাছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কখনো নতি শিকার করবেন না। বোমাবাজি ও নাশকতা করে সরকারের পতন ঘটানো যাবে না।।
সড়ক ও সেতুমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বলেন, তিনি যৌক্তিক পরিণতি পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অযৌক্তিক আন্দোলন করে কখনো যৌত্তিক পরিণতিতে পৌঁছানো যায় না।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গুম খুনের ইতিহাস আওয়ামী লীগের নেই। আমরা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করি না। গুম খুনের সাথে সরকারের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। সরকারে বিরুদ্ধে গুম খুনের সঠিক তথ্য প্রমাণ থাকলে সরকারকে আদালতের কাঠ গড়ায় দাঁড় করান।
সড়ক ও সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, পদ্মা সেতুর নামকরণ নিয়ে সংসদের ভিতরে ও বাইরে অনেক আলোচনা হয়েছে। অনেকে এ সেতুর নাম শেখ ফজিলাতুন্নেছা সেতু, বঙ্গবন্ধু সেতুসহ বিভিন্ন নামকরণের প্রস্তাব করেছেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট্রের সাথে বৈঠক হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পদ্মা নদীর নামেই পদ্মা সেতুর নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটাক্ষ করেছে। তারা কুলাঙ্গার ও জাতির দুশমন ছাড়া আর কিছুই নয়। কেনা ইস্যু ছাড়াই অযৌক্তিক আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারছে। জাতির অস্তিত্ব বিনাশ করেই তারা রাজনীতি করতে চায়।
এর আগে তিনি টুঙ্গিপাড়া পৌঁছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিত সৌধে জাতীয় দিবসের শ্রদ্ধা নিবেদনে ফাতেহাপাঠ ও দোয়া-মোনাজাত করেন।
এ সময় গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক চৌধুরী এমদাদুল হক, গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল কাশেম ভূঁইয়া, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইকবাল, গোপালগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ রায়, সড়ক বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুব আলী খান, শেখ রুহুল আমীন, এসএম আক্কাস আলী, বদরুদ্দোজা বদর, শেখ মো. ইউসুফ আলী, শেখ আব্দুল হালিম, শেখ আবুল বশার খায়ের, সোলায়মান বিশ্বাস, পৌর মেয়র মো. ইলিয়াস হোসেনসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
