অবশেষে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গতকাল দলের পক্ষ থেকে দেয়া এই ঘোষণায় বলা হয়েছে, চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের অংশ ও কৌশল হিসাবেই দলটি আসন্ন সিটি নির্বাচনে লড়াইয়ে থাকবে। এতে আরো বলা হয়, নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমরা প্রমাণ করতে চাই এ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। আন্দোলন এবং নির্বাচন এক সঙ্গে চলবে। নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে হরতাল শিথিল করা হতে পারে।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, আমরা নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল তফসিল ঘোষণার আগে সবার সঙ্গে বৈঠক করা। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে সব প্রার্থীর সমান ও সমান্তরাল সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিমকোর্ট বার কাউন্সিল সভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায়, তাহলে সরকার বিদেশিদের বলবে বিএনপি নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। বিএনপির জনসমর্থন নেই। তারা জঙ্গিবাদী দলে পরিণত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সিটি নির্বাচনে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে, সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই নির্বাচনে সরকার বিএনপির বিজয় বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
এদিকে আত্মগোপনে থাকা বিএনপি সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে এসে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ আত্মগোপনে থাকা এসব নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা রয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগাম জামিন না নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বিএনপি বলেছে - যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বা যারা গ্রেফতারের ভয়ে আত্মগোপনে আছেন - তাদের বের হওয়ার সুযোগ দিতে হবে, যাতে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।
আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়রপদে মনোনয়নপত্র কিনেছেন বিএনপি সমর্থিত সাত প্রার্থী। তারা হলেন - বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আওয়াল মিন্টু, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টু, বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, মহানগর বিএনপির নেতা আবুল বাশার ও বিএনপি-সমর্থিত শিক্ষক নেতা সেলিম ভুঁইয়া। এদের মধ্যে পিন্টু, বাশার ও সেলিম ভুঁইয়া কারাগারে, অন্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে ‘শত নাগরিক’ প্রতিনিধি দলের বৈঠক
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গতকাল ‘শত নাগরিক কমিটি’র একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করেছে। গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সিটি নির্বাচন ও আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, ড. মাহবুব উল্লাহ, ইউটাব প্রেসিডেন্ট ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ডিইউজের একাংশের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদারসহ সাত জন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তারা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।