ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (অধিনায়ক)
রান: ৩২৮, গড়: ৪১.০০, স্ট্রাইক রেট: ১৯১.৮১
‘ঝড়ো ব্যাটিং’ শব্দটা এখন বহুল ব্যবহারে অনেকটাই আবেদন হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি উত্তর যুগে যেসব অপ্রচলিত ক্রিকেট শটের ব্যবহারে রানের ঝড় দেখা যায়, তাতে কোনো ব্যাটিংই আর বিস্ময়কর মনে হয় না। তারপরও এবারের বিশ্বকাপে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম অনন্য হয়েই আছেন। প্রথম দশ ওভারের ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশন ব্যবহার বাকিরা যখন ভুলেই যাচ্ছেন, তিনি তখন ডেল স্টেইনদের গলির বোলার বানিয়ে এগোচ্ছেন।
মার্টিন গাপটিল
রান: ৫৩২, গড়: ৭৬.০০, স্ট্রাইক রেট: ১০৮.৭৯
মার্টিন গাপটিল এক বিস্ময়কর ওপেনার, যাকে আপনি চাইলে ধীরগতির কিংবা ঝড়ো গতির, যে কোনো ভূমিকায় ব্যবহার করতে পারেন। ম্যাককালাম উইকেটে থাকলে গাপটিলের কাজ ইনিংসটা চালু রাখা; যেটা তার চেয়ে ভালো কেউ পারে বলে মনে হয় না। আবার ম্যাককালাম আউট হয়ে গেলে ঝড় তুলে ফেলতে পারেন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ডাবল সেঞ্চুরি করে নিজেকে চিনিয়ে ফেলেছেন।
কুমার সাঙ্গাকারা
রান: ৫৪১, গড়: ১০৮.২০, স্ট্রাইক রেট: ১০৫.৮৭
এমন বিকল্পরহিত খেলোয়াড়কে বাইরে রেখে কীভাবে একাদশ করবেন? ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় নিতে এই বিশ্বকাপ খেলা শুরু করেছিলেন। ‘বুড়ো’ হয়ে যাওয়া সাঙ্গাকারা তাই বলে এমনভাবে রাঙিয়ে রাখবেন বিদায় বেলাকে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন এই বিশ্বকাপে।
স্টিভেন স্মিথ
রান: ৩৪৬, গড়: ৫৭.৬৬, স্ট্রাইক রেট: ৯৪.০২
একটু আনঅর্থোডক্স বলে অনেকদিন আলোচনার বাইরে ছিলেন। ক্যারিয়ারের শুরুও হয়েছিল লেগস্পিনার হিসেবে। সেই স্টিভেন স্মিথই সোনালি এক সময় কাটাতে শুরু করলেন এই গ্রীষ্মে, ব্যাটসম্যান হিসেবে। তাকে বলা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যত্। সেমিফাইনালে এক সেঞ্চুরি করে বুঝিয়ে দিয়েছেন কথাটা কতটা সত্যি।
এবি ডি ভিলিয়ার্স
রান: ৩৪২, গড়: ৯৬.৪০, স্ট্রাইক রেট: ১৪৪.৩১
বলা হয় ‘থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি’ ব্যাটসম্যান। উইকেটে দাঁড়িয়ে যা করেন, তাকে নাচ বললেও কম বলা যায়। অফ স্টাম্পের বাইরের বলকে স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা, শুয়ে পড়ে, বসে মাথার ওপর থেকে ছক্কা; ডি ভিলিয়ার্স থাকলে সবই সম্ভব। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এই ব্যাটসম্যানকে বিশ্বকাপ যেন আরও ভয়ঙ্কর চেহারায় দেখতে পেলো।
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল
রান: ৩২৪, গড়: ৬৪.৮০, স্ট্রাইক রেট: ১৮২.০২, উইকেট: ৫, ইকোনমি: ৫.৮৩
বর্তমান বিশ্বের সম্ভবত সবচেয়ে কার্যকর অলরাউন্ডার। তবে লোকেরা তার ব্যাটিংটাই বেশি মনে রাখে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫৩ বলে যে ১০২ রানের ইনিংস খেলেছেন, তা অনেকদিন মনে থাকার কথা। সঙ্গে কার্যকর অফস্পিন তো আছেই।
কোরি অ্যান্ডারসন
রান: ২৩১, গড়: ৩৮.৫০, স্ট্রাইক রেট: ১০৯.৪৭, উইকেট: ১৪, ইকোনমি: ৬.৪৫
বোলার কোরি অ্যান্ডারসনকেই স্মরণ করা উচিত। এই কন্ডিশনে কোরি যে কতটা ভালো বোলার, তার প্রমাণ ইতিমধ্যে দিয়েছেন। ১৪টি উইকেট ঝুলিতে পুরে ফেলেছেন। কিন্তু দর্শকের কাছে তার পরিচয় এরপরও ঝড়ো ব্যাটসম্যান হিসেবে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করে দেয়া ফিফটিটার জন্য নতুন করে ভক্তসংখ্যা বেড়েছে তার।
ড্যানিয়েল ভেট্টোরি
উইকেট: ১৫, গড় ১৮.৮০, ইকোনমি: ৩.৯৮
পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ২০ বছর পার করে ফেললেন। এখনও বাউন্ডারি লাইনে শূন্যে উড়ে ক্যাচ ধরেন, এখনও ম্যাচ জেতান। ফাইনালই হয়তো ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে হবে। তার আগে বিশ্বকে বুঝিয়ে যাচ্ছেন তার গুরুত্বটা। ম্যাককালাম ভেট্টোরির প্রশস্তি করতে গিয়ে বলেছেন, ‘একজন ভেট্টোরি দলে থাকলে দল বদলে যায়। ভেট্টোরি আপনি দোকানে কিনতে পাবেন না।’
মিচেল স্টার্ক
উইকেট: ২০, গড়: ১০.২০, ইকোনমি: ৩.৬৫
স্টার্কের একটা সুবিধা হলো, তাকে লোকে খেয়াল করে না। দলে জনপ্রিয় ফাস্ট বোলার মিচেল জনসন থাকায় স্টার্ক অনেকটাই নিভৃতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যান। অস্ট্রেলিয়ান পেস ব্যাটারিকে অন্য এক মাত্রা দিয়ে ফেলেছেন এই ফাস্ট বোলার।
ট্রেন্ট বোউল্ট
উইকেট: ২১, গড়: ১৫.৭৬, ইকোনমি: ৪.৪১
শেন বন্ড বলেন, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ফাস্ট বোলার এই বোউল্ট। কেন বলেন, তা বুঝতে এবারের বিশ্বকাপ দেখলেই চলবে। এই বাঁহাতি ফাস্ট বোলার গতিতে, উইকেটে মাতাচ্ছেন।
মরনে মরকেল
উইকেট: ১৭, গড়: ১৭.৫৮, ইকোনমি: ৪.৩৮
দিনশেষে মরকেলের কান্নাটা চোখে ভাসে। স্টার্কের মতো মরকেলেরও বোলিং সঙ্গী এক বড় তারকা ডেইল স্টেইন। কিন্তু স্টেইনকে এবার বিশ্বকাপে অন্তত পেছনে ফেলে দিয়েছেন এই লিকলিকে ফাস্ট বোলার।
