১৫০ আরোহী নিয়ে জার্মানউইংসের বিমান আল্পস পর্বতে বিধ্বস্ত করা কো-পাইলট অ্যান্ড্রিয়াস লুবিত্স তার সাবেক প্রেমিকাকে বলেছিলেন, ‘একদিন সবাই আমার নাম জানবে।’ জার্মান পত্রিকা ‘বিল্ড’র বরাত দিয়ে এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
বিল্ডকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে লুবিেসর প্রাক্তন বান্ধবী মারিয়া ডব্লিউ বলেন, বিমান বিধ্বস্ত করার খবর শোনার পর লুবিেসর একটা কথা মনে পরে। সে আমাকে বলেছিল, ‘আমি একদিন কিছু একটা করব যা পুরো প্রক্রিয়াকে পরিবর্তন করে দেবে। সবাই আমার নাম জানবে ও মনে রাখবে।’
বিধ্বস্ত বিমানের ভয়েস রেকর্ডার থেকে জানা যায়, লুবিত্স তার পাইলটকে ককপিটের বাইরে রেখে দরজা বন্ধ করে দেন এবং বিমানটি উড়িয়ে নিয়ে পর্বতের গায়ে বিধ্বস্ত করেন।
মারিয়া জানান, গত বছর তারা দুইজন একসঙ্গে ইউরোপ ভ্রমণ করেছিলেন। ঐ সময় দুজনই যথেষ্ট সুখী ছিলেন।
তিনি জানান, লুবিত্স লুফথানসানায় পাইলট বা ক্যাপ্টেন হিসেবে চাকরি করতে চেয়েছিলেন। সে বুঝতে পেরেছিল তার শারীরিক অবস্থার কারণে তা সম্ভব বাস্দবিক সম্ভব নয়। একারণে অনেকটা হাতাশায় ভুগছিলেন তিনি। লুবিত্স’র কিছু মানসিক কিছু সমস্যার কারণে বান্ধবীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়।
কো-পাইলটের বাড়িতে শুক্রবার তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিসপত্র জব্দ করেছে পুলিশ। তার ব্যবহূত বিভিন্ন জিনিসপত্র জব্দের পাশাপাশি তার বিষণ্নতার নমুনা সম্বলিত কিছু চিরকুটও পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে একটি নোটে ঐদিনের বিমান বিধ্বস্তেরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জার্মান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমান কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যে লুবিৎসের মানসিক বিষণ্নতার কথা বলা হয়েছে এবং ঐ বিষয়গুলো এখন মূল্যায়ন করে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার পেছনে কোন রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় বিষয় সম্পৃক্ত নয়, এমনকি আত্মহত্যা করার মতো কোন চিরকুটও পাওয়া যায়নি।
একজন প্রসিকিউটর বলেন, লুবিত্স যে দুই জায়গায় থাকতেন সেসব জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে জার্মান পুলিশ। তারা তার ডুসেলডর্ফের ফ্ল্যাট এবং ফ্রাঙ্কফুটের উত্তরে বাবা-মায়ের সাথে যে ফ্ল্যাটে থাকতেন সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। এসব জিনিসের পাশাপশি তার মানসিকভাবে অসুস্থতারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ থাকলেও বিষয়টি কর্মস্থলে গোপন রেখেছিলেন তিনি।
জার্মান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০০৯ সালে মারাত্মক বিষণ্নতার কারণে দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণের বাইরে রাখা হয়েছিলো লুবিত্সকে।
