সোনালী ট্রফির লড়াই আজ

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৫, ০০:২৫

দুনিয়ার মানচিত্রে এমন ‘ভাই-ভাই’ সম্পর্কের প্রতিবেশী খুঁজে পাওয়া কষ্ট। পাশাপাশি দেশ হয়েও তাদের মধ্যে কোনো গোলমাল নেই। দু’দেশেরই আলঙ্কারিক প্রধান ব্রিটেনের রাণী, দু’দেশের আন্তর্জাতিক নীতি একইরকম, হাতে হাত রেখে তারা সেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে লড়াই করে আসছে। কিন্তু খেলাধুলার প্রশ্ন এলেই সম্পর্কটা বদলে যায়।

রাগবি ইউনিয়ন, রাগবি লিগ, ফুটবল, নেটবল, বাস্কেটবল, হকি এবং ক্রিকেট; যেখানেই দেখা হোক, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সম্পর্কটা একেবারে শত্রুতার সম্পর্কে পরিণত হয়। সব খেলাতেই দু’দলের লড়াইকে সোজা বলে দেয়া হয়—ট্রান্স তাসমানিয়ান ওয়ার!
আজ এই যুদ্ধের চূড়ান্ত এক রূপ দেখবে বিশ্ব। যে কোনো ধরনের খেলায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। আর এই লড়াইকেই বলা হচ্ছে সর্বকালের সেরা তাসমানিয়ান লড়াই।
আজ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে নয়টায় অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২০১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক এই দুই দেশ। দীর্ঘ প্রায় এক মাসের নানা রঙের লড়াই পার করে এবার লড়াই একটাই—ট্রফি উঠবে কার হাতে? ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, নাকি মাইকেল ক্লার্ক?
সেই ১৪ ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে উপভোগের, বিনোদনের কোনো অভাব ছিলো না। দুটো ডাবল সেঞ্চুরি, দুটো হ্যাটট্রিক, অবিশ্বাস্য সব ব্যাটিং ইনিংস, অবিশ্বাস্য বোলিং-ফিল্ডিং মিলিয়ে বিশ্বকাপকে রঙ্গীন করে রেখেছেন অনেকেই। এইসব তারকাদের বেশিরভাগই পালাক্রমে বিদায় নিয়েছেন। টিকে আছেন কেবল দারুণ যোগ্যতার বলে ফাইনালে আসা স্বাগতিক দুই দলের ক্রিকেটাররা। বলা হচ্ছে, এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে যোগ্য দু’টি দল ফাইনালে এসেছে।
ফাইনালে একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে, বিশ্বের সর্ববৃহত্ ও সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড। এই মাঠের বিশালত্বের সঙ্গে যে দলের ব্যাটসম্যানরা, ফিল্ডাররা বেশি মানিয়ে নিতে পারবেন, তারাই শেষ হাসি হাসবেন। এই বিচারে আপাতত অস্ট্রেলিয়ারই এগিয়ে থাকার কথা।
মেলবোর্নের মাঠ এমনিতে বড় রানের জন্য খ্যাত। তবে সেটা প্রথম ইনিংসে। এখানে আগে ব্যাট করলে প্রচুর রান আসাটা নিয়মে দাঁড়িয়ে গেছে। কিন্তু পরে ব্যাট করে সে রান তাড়া করা খুব কঠিন। ইতিহাস বলছে যে, এই মাঠে তিনশ’ রান তাড়া করে কেউ কখনো জিততে পারেনি। বিশাল এই মাঠে তাই টসটা বড় একটা ভূমিকা রেখে ফেলতে পারে।
সাধারণ ক্রিকেটীয় বিচার বলছে, সব দিক থেকেই আজ অস্ট্রেলিয়া একটু হলেও এগিয়ে থাকবে।
এই নিয়ে সাতবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম দলটি; এর মধ্যে চারবার ট্রফিটিও জিতেছে। ফলে এই বড় মঞ্চে কিভাবে শেষ হাসি হাসতে হয়, সেটা তাদের ভালোই জানা আছে। অস্ট্রেলিয়ার হাতে আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি দেখতে অধীর দেশটির বিশ্বজয়ী সাবেক ক্রিকেটার শেন ওয়ার্ন, স্টিভ ওয়াহরা অনুশীলনে দলকে সময় দিচ্ছেন; কোচ হিসেবেও দলের সঙ্গে আছেন বিশ্বকাপ জয়ী তারকা ড্যারেন লেহম্যান।
বিপরীতে নিউজিল্যান্ড সাতবার সেমিফাইনাল খেলার পর এবারই প্রথম ফাইনালের দেখা পেলো। ফলে এই মঞ্চটা তাদের জন্য একেবারে অচেনা-অজানা এক ভুবন। এই মঞ্চে কিভাবে কী হয়, সে সবই তাদের শোনা কথা। তারপরও দলটির পাশে এসে শেষ সময়ে অনুপ্রেরণা দেয়ার চেষ্টা করছেন দেশটির কিংবদন্তী স্টিফেন ফ্লেমিং, রিচার্ড হ্যাডলি, ম্যাকমিলানরা।
ইতিহাস নিউজিল্যান্ডকে একটু পিছিয়ে রাখলেও এবারের বিশ্বকাপে কিন্তু নিউজিল্যান্ড পরিষ্কার এগিয়ে। ফাইনালে আসার পথে প্রতিটি দলের বিপক্ষে জয় নিয়েই এসেছে নিউজিল্যান্ড। এমনকি এই অস্ট্রেলিয়াকেও গ্রুপপর্বে হারিয়েছে তারা শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ওই একটি হার ছাড়াও বাংলাদেশের বিপক্ষে পূর্ণ পয়েন্ট পায়নি বৃষ্টির কারণে। দলীয় এই পারফরম্যান্সের বাইরে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে রেখেছেন ম্যাককালাম, গাপটিল, অ্যান্ডারসন, বৌল্ট, সাউদি কিংবা ভেট্টোরি। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল ক্লার্ক, শেন ওয়াটসনরা এখনও সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। তাদেরকে বড় বেশি ভরসা করতে হচ্ছে স্মিথ, ম্যাক্সওয়েল, স্টার্কদের ওপর।

তবে এসবকিছুই আজ অর্থহীন হয়ে যাবে। দু’দলের অধিনায়কই বলছেন, আজ মেলবোর্নে শূন্য থেকেই শুরু হবে লড়াই। আর এই লড়াইয়ে স্নায়ু যে শক্ত রাখতে পারবে, জয়টা তারই হবে।