কোটি টাকার এক প্রশ্ন—কে জিতবে আজ বিশ্বকাপ!
উত্তরটা আগে দিতে পারলে তো হয়েই যেত। তাহলে আর খেলার দরকার পড়তো না। আগে থেকে ভেবে ঠিক করে ফেলা যেত, এবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন কারা। কিন্তু ব্যাপারটা তো খেলার মাঠে ঠিক হবে; তাই এ নিয়ে আমরা এখন কেবলই অনুমান করতে পারি। সংকটটা হলো, পক্ষপাতহীন অনুমান আমি ঠিক করতে পারছি না।
লুকানোর কোনো ব্যাপার নেই। আমি চাই নিউজিল্যান্ড জিতুক। এই দেশটার একটা বিশ্বকাপ পাওনা হয়ে গেছে। ক্রিকেট বিশ্বকে অনেক কিছু দিয়েছে তারা। সাত সাতবার সেমিফাইনাল খেলেছে। এটা কোনো মজার ব্যাপার নয়। আর এবার যে রোমাঞ্চকরভাবে, অপরাজিত থেকে ফাইনালে এসেছে তারা, তাতে বিশ্বকাপ ট্রফিটা ম্যাককালামের হাতেই মানায়।
হূদয় তাই খুব বলছে—নিউজিল্যান্ড। কিন্তু আবেগের এই কথার সঙ্গে একমত হতে পারছে না যুক্তি। যেই না মাথা খাটাতে যাচ্ছি, অমনি মনে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
আমি আবারও বলি, এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল হলো অস্ট্রেলিয়া। আপনি কোথাও কোনো ত্রুটি এই দলটার মাঝে খুঁজে পাবেন না। একটা দলকে কম ফেবারিট বলতে হলে, তার উইক পয়েন্ট তো চিনতে হবে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার উইক পয়েন্ট কী?
কেউ কেউ বলবেন, ক্লার্ক-ওয়াটসন-ওয়ার্নার। এটা ফালতু কথা। কিভাবে ফিঞ্চ ফর্মে ফিরে এসেছে, দেখেছেন? ক্লার্ক, ওয়াটসন বা ওয়ার্নারও এরকম বড় মঞ্চের অপেক্ষায় আছেন। আর ওরা যদি ফর্মে নাও আসেন, তাও কী হবে! কী লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ। ওপরে স্মিথ, মিডল অর্ডারে ম্যাক্সওয়েল বড় ইনিংস খেলবেন। এরপর একদম জনসন পর্যন্ত ব্যাটসম্যান। বোলিংয়ে সেরা তিনটে ফাস্ট বোলার খেলাবে ওরা। ফলে অস্ট্রেলিয়া হারবে, এটা কল্পনা করাটা একটু কঠিন।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য আরেকটা বড় পয়েন্ট হল মেলবোর্ন ও হোম গ্রাউন্ড।
নিউজিল্যান্ড এই প্রথম বিশ্বকাপে দেশের বাইরে ম্যাচ খেলবে, ফলে তাদের মানিয়ে নিতে কষ্ট হবে। আর বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার খেলা তাদের দেশেই। এখানে মেলবোর্নটা আরও বড় একটা ব্যাপার। এই বিশাল মাঠে মানিয়ে নেয়া অস্ট্রেলিয়া ছাড়া যেকোনো দলের জন্য সমস্যা। এই সুবিধাটা দারুণভাবে নেবে অস্ট্রেলিয়ানরা।
আমি নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। ওদের এক ঝাঁক তারকা দারুণ ফর্মে আছেন। দারুণ টীম স্পিরিট। ফলে কিছু চমক তো দিতেই পারে। তবে তাদের আবার প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার বাড়তি চাপ নিতে হবে। সেটা কতোটা পার হয়ে উঠতে পারে, তাও একটা প্রশ্ন।
অনেকে গ্রুপপর্বে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ম্যাচকে সামনে এনে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু ভেন্যুটা মাথায় রাখুন। মেলবোর্নে ওরকম পেস-বাউন্সের ঝড় দেখাতে পারবে না বৌল্ট বা সাউদি। শেষ বিচারে খেলার ফলাফল যাই হোক, একটা ব্যাপার পরিষ্কার যে, অনেক বড় একটা ম্যাচ দেখতে চলেছি আমরা।
