জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হুমকিতে থাকা দেশগুলোর সহায়তার লক্ষ্যে গঠিত গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) থেকে অর্থ নেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বহুজাতিক দাতা সংস্থা হিসেবে এডিবিই প্রথম এ সুযোগ পেয়েছে। জিসিএফ তহবিল থেকে নেয়া অর্থ এডিবির সদস্য দেশগুলোতে পরিবেশ-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে বাস্তবায়ন করবে সংস্থাটি। ম্যানিলাস্থ প্রধান কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত সম্মেলনের (ইউএনএফসিসিসি) সিদ্ধান্তের আলোকে ২০১০ সালে জিসিএফ গঠিত হয়। জলবায়ু সংক্রান্ত অর্থায়নই এ তহবিলের মূল লক্ষ্য। এ তহবিল উন্নয়নশীল দেশগুলোর গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করবে। এ তহবিলে অর্থায়ন করতে ৩২টি দেশ ১ হাজার ২০ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ তহবিলে সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এর পরেই রয়েছে জাপান, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।
এ বিষয়ে এডিবির প্রেসিডেন্ট তাকেহিকো নাকাও বলেছেন—জলবায়ু তহবিল থেকে এডিবির নমনীয় ঋণ ও সংস্থাটির অভিজ্ঞতা জলবায়ু খাতে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করবে। ডিসেম্বরে প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য ইউএনএফসিসিসি সম্মেলনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এডিবির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়—বর্তমানে এশীয়া অঞ্চল থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন হচ্ছে ৩৭ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যেই এর হার ৪৬ শতাংশ অতিক্রম করবে।
এডিবি জানায়—জিসিএফ তহবিল থেকে পরিবেশ দূষণ রোধ ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে চলার জন্য অর্থ ব্যয় হবে। এর অর্ধেক যাবে ছোট দ্বীপ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। অফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোও এ তহবিল থেকে সহায়তা পাবে। সংস্থাটি ২০১৪ সালে জলবায়ু খাতে ৩০০ কোটি ডলার সহয়তা অনুমোদন দিয়েছে। এর বাইরে আরো ২৬০ কোটি ডলারের সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি। এ অর্থের ৭৫ শতাংশ ব্যায় হয়েছে পরিবেশ দূষণ কমাতে। আর ২৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে ক্ষতিপূরণ ও পরিবর্তিত পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে।
