রাজধানীতে প্রকাশ্যে ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৫, ১৮:২৩
 
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রকাশ্যে ওয়াশিকুর রহমান (২৬) নামে এক ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে শিল্পাঞ্চল থানাধীন বেগুনবাড়ির দিপিকা মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জনতার সহায়তায় আরিফ ও জিকরুল্লাহ নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সাহা জানিয়েছেন, নিহত ওয়াশিকুর রহমান বাবুর বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ফারইস্ট ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। দক্ষিণ বেগুনবাড়ির ৫/৭ নম্বর বাড়ির নিচতলার মেসে থাকতেন তিনি। সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওয়াসিফুর তার মেস থেকে বের হন। এসময় দক্ষিণ বেগুনবাড়ির একটি গলিতে তিনজন অস্ত্রধারী যুবক তাকে ঘেরাও করে গলির মধ্য উপর্যপুরি কোপাতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই ওয়াসিফুর মারা যান।
তিনি আরো জানান, হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় শিল্পাঞ্চল থানার একটি টহল টিম জনতার সহায়তায় আরিফ ও জিকরুল্লাহ জিকির হাতেনাতে ধরে ফেলে। তাহের নামে হামলাকারী ঘটনাস্থলে থেকে পালিয়ে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে জিকির জানিয়েছে, তারা ঢাকার মিরপুরের একটি মাদ্রাসা ও চট্টগ্রামে আরো একটি মাদ্রাসার ছাত্র। বিভিন্ন সময় ব্লগে ধর্ম সম্পর্কে বাবুর লেখালেখিতে তারা সিদ্ধান্ত নেয় তাকে খুন করবে। এরই প্রচেষ্টায় রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে দুইজন ঢাকায় এসে অন্য সহযোগীর সঙ্গে মিলিত হয়। সন্ধ্যায় দক্ষিণ বেগুন বাড়ির ওয়াসিকুর রহমান মেসের সামনে রেকি করে। সকালে ওয়াসিকুর মসে থেকে বের হলে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সাহা জানান, ওয়াশিকুর ‘ইষ্টিশন’ ব্লগে লেখালেখি করতেন। এছাড়া তার ফেসবুকে মৌলবাদ ও উগ্র জঙ্গিবাদ নিয়ে লেখালেখি করতেন। তিনি নিজেকে ‘কুচ্ছিত হাঁসের ছানা’ নামে পরিচয় দিতেন।

IMG0

তিনি আরো জানান, পুলিশ ফেসবুক ও ব্লগের তথ্য যাচাই-বাছাই করছে। ওয়াশিকুরের সঙ্গে হামলাকারীদের ফেসবুক ও ব্লগারে কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কিনা তাও যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
অন্য একজন ব্লগার জানিয়েছে, ওয়াশিকুরের ফেসবুক আইডি’র নাম ‘অবিশ্বাসী’। তিনি সাত বছরের বেশি সময় ধরে ‘সামহোয়্যার’ ব্লগে ‘কুচ্ছিত হাঁসের ছানা’ নামে লিখতেন।
এই প্রথম ব্লগার খুনের সঙ্গে জড়িতদের আটক করা হলো। এর আগে গত বছরে  ১৩ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে ব্লগার আহমেদ রাজীব ও এ বছর ২৬ ফেবু্রয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার সময় জঙ্গিদের হামলার শিকার হয়ে মারা যান।
ধর্মীয় মতাদর্শ বিরোধ থেকেই তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলেই পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুলিশ আরেক পলাতককে খুঁজছে।