সমাজ বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, চার বছর বয়সের মধ্যেই একটি শিশু তার জীবনের ‘ভিত্তি-জ্ঞান’ অর্জন করে ফেলে। কোন বিষয়ে তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতার অধিকারী হয় সে। বিচক্ষণ একজন মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলো তার মধ্যে দেখা দিতে শুরু করে। প্রায়শই ছোট ছোট শিশুরা দায়িত্বশীল অভিভাবকের মতো আচরণ করে থাকে। অনেক সময় শিশুরা এমন কিছু বীরত্বপূর্ণ কাজ করে বসে যা দেখে বিস্মিত হতে হয়। জানাচ্ছেন— আশেক খান আলেখীন
মাকে বাঁচাতে ৬ গুলি খেল মেয়ে
যুক্তরাষ্ট্রে আর্লিংটনে ঘটেছিল লোমহর্ষক এই ঘটনাটি। সালিথা পার্কার (৩০) নামে এক তরুণীর বাসায় ঢুকে পড়ে তার সাবেক প্রেমিক। বাসায় ঢুকেই ক্ষিপ্ত ওই তরুণ সাবেক প্রেমিকার বুকে গুলি চালাতে উদ্যত হয়। ঠিক তখনই মাকে বাঁচাতে দুজনের মাঝে এসে বন্দুকের সামনে বুক পেতে দেয় ৭ বছর বয়সী অ্যালেক্সিস গগিন্স। তাতেও মন গলেনি ঐ পাষণ্ডের। মা-মেয়ে দুজনের গায়েই এলোপাতাড়ি গুলি চালায় সে। ৬টি গুলি মেয়ের গায়ে বিদ্ধ হয়, মার মাথার পাশে ও এক হাতে লাগে গুলি। ছয় ছয়টি গুলি খেয়েও জ্ঞান হারানোর আগ পর্যন্ত কাঁদতে কাঁদতে মায়ের জীবনভিক্ষা চাইতে থাকে অ্যালেক্সিস। এরপর ঐ বন্দুকধারী চলে যায়। আর বেশ কিছুদিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে মা-মেয়ে দুজনেই সুস্থ হয়ে ওঠে।
নিজে ছুরিকাঘাত খেয়েও মাকে বাঁচাল নাথান
ছুরি হাতে এক মাতাল ঢুকে পড়েছিল স্কটল্যান্ডের ফাইফে অবস্থিত নাথান থম্পসনদের বাসায়। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকেই হুগ ক্লার্ক নামের ঐ মাতালটা নাথানের মা এমার গায়ে এলোপাতাড়ি ছুরি চালাতে শুরু করলো। মাকে বাঁচাতে ৯ বছর বয়সী নাথান পেছন থেকে ক্লার্কের গলা ধরে ঝুলে পড়ে। মাতালটা তখন ঘুরে নাথানের মুখে ছোরা বসিয়ে দেয়। কিন্তু তারপরেও নাথান ওই দুর্বৃত্তের গলা ছাড়ে না। এক পর্যায়ে ক্লার্ক ভয় পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যায়। আর ৮ বার ছুরির কোপ খেয়েও ছেলের কল্যাণে বেঁচে গেলেন এমা। একটু দেরিতে হলেও মা-ছেলে দুজনেই পরে সুস্থ হয়ে ওঠে।
সাত বছরের বালকের সাইকেল ভ্রমণ
হাইতির ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য সংগ্রহে সাইকেল ভ্রমণে বের হওয়ার কথা নিজের ‘জাস্টগিভিং’ নামের ওয়েবসাইটে তুলে ধরেছিল সাত বছর বয়সী চার্লি সিম্পসন। বলেছিল, ‘হাইতিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ফান্ড সংগ্রহ করতে আমি সাইকেল ভ্রমণে বের হচ্ছি। দুর্গতদের জন্য খাবার, পানি ও তাঁবু কিনে দিতে আমার অর্থ প্রয়োজন। কেউ কি এই ফান্ড সংগ্রহে আমাকে সাহায্য করবেন?’ চার্লির এই আবেদনে সারা বিশ্ব থেকে যথেষ্ট সাড়া মেলে। চার্লির আশা ছিল খুব বেশি হলে শ’পাঁচেক পাউন্ড সে সংগ্রহ করতে পারবে, কিন্তু পাওয়া যায় ১ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড এবং সেই সঙ্গে অনেক উপহার সামগ্রীও।
ছোট্ট মেয়ে ম্যাডি, বাঁচলো ৭ প্রাণ
যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনা। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে রাস্তার একটা অংশ ধসে পড়েছিল। সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ভাঙা অংশ দিয়ে পড়লো একেবারে নদীতে। গাড়ি দুটিতে ছিল সাতজন আরোহী। একটিতে ছিল ১১ বছরের মেয়ে ম্যাডি ম্যাকরে, তার মা ও ছোট দুই ভাইবোন। পানিতে গাড়ি ভরে যেতে থাকলে ম্যাডি ভাবলো আর রক্ষা নেই, মা-ভাইবোনকে নিয়েই তাহলে মরতে হবে। কিন্তু না, তা হতে পারে না। সাহসে বুক বেঁধে ছোট্ট মেয়ে ম্যাডি গাড়ির ভাঙা জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলো এবং ইলেকট্রিকের তার বেয়ে কোনমতে রাস্তায় উঠে এলো। এরপর পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে গিয়ে জরুরি সাহায্যের জন্য ফোন করলো ৯-১-১ এ। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাহায্য এসে গেল। জীবিত উদ্ধার করা হলো দুটি গাড়ির সাত যাত্রীর সকলকেই।
