কবে কাটবে ‘অজ্ঞাতবাস’

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৫, ১৩:৩৬
 
পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে গেলে একটি রাজনৈতিক দলের একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকে নিয়ে এমন নিষ্ঠুর ঠাট্টা মসকরা হতে পারে! ভারতের কংগ্রেস পার্টির সহসভাপতি রাহুল গান্ধী কোথায় আছেন তা দলের কেউই জানেন না। ভারতে এখন এটি মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি দল ঠাট্টা করছে, রাহুলকে ‘পলাতক’ বলছে। আবার তার নির্বাচনী এলাকার জনগণ আরেকধাপ এগিয়ে গিয়ে এলাকার এমপিকে খুঁজে বের করতে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিও দেয়ালে দেয়ালে লাগিয়ে দিচ্ছে। অনেকে রাহুলের সন্ধান দিলে বড় অঙ্কের পুরস্কারের লোভও দেখাচ্ছে।
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা জবাব দিতে পারছেন না -কেন রাহুলের এই ‘অজ্ঞাতবাস’ এবং কবে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাবে। কারণ তারা কিছুই জানেন না। ধারণা করা হয়েছিল সোনিয়া গান্ধী হয়তো সব অপপ্রচারের জবাব দিবেন এবং তিনি ছেলের অবস্থান জানিয়ে দিয়ে মিডিয়া এবং নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করবেন। কিন্তু সোনিয়ার শনিবারের মন্তব্যে যা বোঝা গেল তিনিও জানেন না ছেলে কোথায় আছেন! তিনি কেবল জানালেন, ‘শিঘ্রই রাহুল প্রকাশ্যে আসবেন’। শনিবার আমেথিতে গেলে সবাই তাকে ঘিরে ধরে রাহুলের ব্যাপারে জানতে। তিনি বলেন, ‘জলদিই রাহুল আপনাদের সামনে উপস্থিত হবেন।’ তবে, ঠিক কবে দেখা মিলবে রাহুলের, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।
এর আগে কংগ্রেস দলীয় সূত্রে বলা হয়েছিল অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ফিরছেন রাহুল। ফিরেই দলীয় প্রেসডেন্ট পদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন রাহুল। কিন্তু প্রকাশ্যে আসার পরিবর্তে জানা গেল, আরো ছুটি বেড়ে গেছে রাহুল গান্ধীর। প্রথমে শোনা যাচ্ছিল, তিনি দু’সপ্তাহের জন্য ছুটিতে গেছেন। কিন্তু সেই দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। ফলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে গেছে কংগ্রেসের নেতারা। দলীয় মুখপাত্র অভিষেক মনু সিংভিকে বার বার প্রশ্ন করছে মিডিয়া। কিন্তু তিনি কেবল বলছেন, ‘আমরা যখন জানতে পারব রাহুল কোথায় আছেন, তখন আপনাদের জানিয়ে দেব। তিনি বলেছেন, ‘রাহুল গান্ধী যেখানেই থাকুন দলের সমস্ত কর্মসূচির ব্যাপারেই তিনি ওয়াকিবহাল। যে সব সিদ্ধান্ত হচ্ছে, তার সঙ্গে আলোচনা করেই হচ্ছে। তার এই ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে মর্যাদা দেয়া উচিত।’
কিন্তু কংগ্রেসের ভেতরেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিবৃতিতে তারা রাহুলের পক্ষে কথা বলছেন ঠিকই, কিন্তু নেতার এই কর্মকান্ডে তারাও যে বেশ অস্বস্তিতে, তা মেনেই নিচ্ছেন। দলের অনেকের প্রশ্ন, রাহুল আগামী দিনের মুখ। তিনি এক মাসের বেশি সময় ধরে কোথায় আছেন, আমরা শীর্ষ নেতারাও জানতে পারছি না। লোকের কাছে কীভাবে জবাব দেব? তিনি কোথায় নিরুদ্দেশ হয়ে যাবেন, দলের লোকেরাও জানতে পারবেন না, এটা তো হতে পারে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাহুল যদি দ্রুত প্রকাশ্যে না এসে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেন তবে দীর্ঘমেয়াদে কংগ্রেসের ভোটব্যাংকে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।