চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে বরাবরই সৌভাগ্যবান বলাই যায় চঞ্চল চৌধুরীকে। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের মনপুরা ছবিটি গত কয়েক বছরের হিসেবে সেরা ব্যবসা সফল ছবির একটি । তবে চলচ্চিত্রকার সেলিম ওই একটি সাফল্য নির্মাণের পর নতুন পরীক্ষা দেবার ভয়ে সেই যে পালালেন আর খোঁজ মিললো না তার। মাঝে হঠাত্ ‘কাজল রেখা’ নামে নতুন চলচ্চিত্রের ঘোষণা দিলেও সে আশার প্রদীপও টিমটিমিয়ে জ্বলছে এখন। তবে সেলিমের ধারাবাহিক ছবি করতে না পারার ব্যর্থতা চঞ্চলের ওপরে এতটুকুও বর্তায় না। তবে মনপুরার ব্যবসা সফল চঞ্চলকে ব্যবহার করে আরও কিছু দারুণ উপহার তিনি আমাদের দিতে পারতেন।
এরপর গৌতম ঘোষের ‘মনের মানুষ’ ছবিতে যদিও চঞ্চল প্রধান চরিত্রে ছিলেন না, তবুও এই ছবিটি তার চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারে সাফল্যের অবস্থানটা দৃঢ় করেছে। তাই নির্মাতাদের নিয়মিত ছবি রিলিজ হোক না হোক চঞ্চল চৌধুরী আমাদের ভিন্ন ঘরানার চলচ্চিত্রের নায়ক হিসেবে একটি পোক্ত অবস্থান করে নিয়েছেন।
এবারে চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিলেন বিজ্ঞাপন নির্মাণ জগতের সবচেয়ে মেধাবী নির্মাতা অমিতাভ চৌধুরী।
আর ছবির কাহিনি লিখেছেন ‘থিঙ্ক ট্যাংক’ খ্যাত বিজ্ঞাপনের বিখ্যাত আইডিয়াবাজ গাউসুল আলম শাওন।
দেখা যাক আমাদের বিজ্ঞাপন জগতের এই জনপ্রিয় জুটি তাদের সেকেন্ড-মিনিটের কারিশমার মতো দুই-তিন ঘণ্টার ক্লাইমেক্সে সিনেমা হলে কতটা দর্শক মুগ্ধ করতে পারেন। ছবির পাত্র হিসেবে ঘোষণা হয়েছে চঞ্চল চৌধুরীর নাম। ছবির নাম ‘আয়না বাজি’। কর্পোরেট প্রযোজকের বদৌলতে ছবির প্রচারের ঢোল বেশ বড় করেই বাজবে এটা বলাই বাহুল্য। তবে দর্শকের মনে আনন্দের ঢোল কতটা উচ্ছ্বাস নিয়ে বাজে সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। একই সাথে চলচ্চিত্রের এই মাঠে দুই কর্পোরেট ব্যক্তিত্বের শুভাগমনটাও ইতিবাচক। যদি তারা সত্যিকার চলচ্চিত্র প্রেম থেকেই এই মাধ্যমে আসেন। শুধু স্পন্সর থেকে লাভ নয় দর্শক হাউজফুলের বাজি লাগাতে পারে যেন ‘আয়না বাজি’।
চঞ্চল চৌধুরীর ক্যারিয়ারের জন্য পুরো বিষয়টি সোনায় সোহাগা। এ কারণে নতুন লুকে নিজের মেধার সবটুকু দিয়েই কাজ করবেন বলে জানালেন তিনি। পাশের ছবিটি দেখেই পাঠকেরা অনুমান করতে পারছেন তার গেটআপটা কতটা বদলে নিয়েছেন। আর বিক্ষিপ্ত এই চলচ্চিত্রপাড়ায় ‘আয়না বাজি’ নতুন এক সফলতার বাজি হয়েই ধরা দিক সেটাই সবার মতো আমরাও প্রত্যাশা করি।
