চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

মনজুরের চেয়ে নাছিরের আয় প্রায় দেড় কোটি টাকা বেশি

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৫, ১৯:১৯
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলমের চেয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীনের বার্ষিক আয় প্রায় দেড় কোটি টাকা বেশি। তবে নাছিরের ব্যবসার পরিমাণ এবং দায়দেনা মনজুরের চেয়ে কম। 
সিটি নির্বাচনে প্রার্থীতার জন্য গত রবিবার রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিলকৃত মনোনয়ন পত্রের সাথে জমা দেয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 
হলফনামা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের বার্থ অপারেটর, স্যুয়েটার কারখানা, আবাসন শিল্প, ফিশিং, ঘাট ইজারা এবং তেল পরিবহনের ব্যবসা রয়েছে। ৫৮ বছর বয়সী এ রাজনীতিকের বার্ষিক আয় তিন কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার ৭৪৪ টাকা। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিদায়ী মেয়র মনজুর আলমের বার্ষিক আয় এক কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার ৯১৬ টাকা। অর্থাৎ নাছিরের বার্ষিক আয় মঞ্জুরের চেয়ে এক কোটি ৬৯ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৮ টাকা বেশি। 
আ জ ম নাছির উদ্দীনের বার্ষিক আয়ের মধ্যে ব্যবসা বাবদ রয়েছে তিন কোটি ২০ লাখ টাকা। আর কোম্পানি পরিচালক হিসাবে ভাতা বাবদ পান আরও ৪২ লাখ টাকা। এছাড়া সম্মানী ও ব্যাংক সুদ মিলিয়ে বছরে আরও ৩২ হাজার ৭৪৪ টাকা আয় করেন তিনি। ঢাকায় একটি প্লট এবং চট্টগ্রাম শহরে পৈত্রিক বাড়ির ছয় ভাগের এক অংশের মালিকানা রয়েছে তার। 
অন্যদিকে ৬২ বছর বয়সী মনজুর আলম মোস্তফা হাকিম গ্রুপ অব কোম্পানির অন্যতম কর্ণধার। এ গ্রুপের ১২টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান পদে আছেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানার লভ্যাংশ হিসাবে তিনি বছরে পান এক কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫১৫ টাকা। আর মেয়র পদের সম্মানী হিসাবে গত এক বছরে পেয়েছেন আট লাখ ৮৯ হাজার টাকা। বাড়ি, দোকান ও এপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ বছরে আরও ৩৫ লাখ সাত হাজার টাকা তার আয় রয়েছে। 
নাছিরের দায়দেনাও কম 
হলফনামা অনুযায়ী, দুইটি ব্যাংক হিসাব ও একটি জীবন বীমার বিপরীতে আ জ ম নাছিরের মোট দায়দেনার পরিমাণ আট কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৪ টাকা। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক লালদীঘি শাখায় সর্বোচ্চ আট কোটি ৪৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯৮ টাকার দায় আছে। এক্সিম ব্যাংক বহদ্দারহাট শাখার ডিপিএসের বিপরীতে দেনার পরিমাণ ১২ লাখ ৯১ হাজার ১৪৩ টাকা। মেট লাইফ অ্যালিকো ইন্সুরেন্সের কাছে তার দেনা সাত লাখ ৪৪ হাজার ৮৩ টাকা। অন্যদিকে ব্যাংকে মনজুর আলমের দায়দেনার পরিমাণ চার কোটি ৭০ লাখ ছয় হাজার ১৯৮ টাকা। কোম্পানির বিভিন্ন পদে থাকা মনজুরের অনেক ঋণও রয়েচে। বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ ৩৬০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। 
আ জ ম নাছিরের কাছে নগদ টাকা আছে এক লাখ ৮৪ হাজার ৬৯০। ব্যাংকে জমাকৃত টাকার পরিমাণ ৯১ হাজার ৩৬ টাকা। শেয়ার মার্কেট, কোম্পানি শেয়ার ও জীবন বীমা মিলিয়ে তার আরও ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৩৮ টাকা রয়েছে। একটি পুরনো জিপ ছাড়া তার কোনো গাড়ি নেই। আর স্ত্রীর নামে নগদ ৪৫ হাজার ৫৭৯ টাকা, ব্যাংকে এক লাখ ৩১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ৩৪ লাখ টাকার কোম্পানি শেয়ার, ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৩২০ টাকার এফডিআর এবং বিয়ের সময় পাওয়া ২০ ভরি সোনার গয়না আছে। 
অন্যদিকে মনজুরের কাছে নগদ এক কোটি ৬৯ লাখ তিন হাজার টাকা রয়েছে। তার স্ত্রীর কাছে আছে ১৯ লাখ ৮০ হাজার নগদ টাকা। বন্ড, শেয়ার ও কোম্পানি শেয়ার বাবদ মনজুরের কাছে আছে ২৮ কোটি ৩৯ লাখ সাত হাজার টাকা। তার স্ত্রীর হাতে আছে এক কোটি ৭১ লাখ ২৫ হাজার টাকার বন্ড ও শেয়ার। এছাড়া মনজুরের চার লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরণের যানবাহন আছে। স্বর্ণ আছে দুই লাখ ৩৩ হাজার টাকার। তার স্ত্রীর কাছে স্বর্ণ আছে ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকার। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী মনজুরের ছয় কোটি ৫৮ লাখ ১৬ হাজার ৫৪৩ টাকার অকৃষি জমি রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে আছে এক কোটি ৭৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার অকৃষি জমি।