গার্মেন্টস কারখানায় অর্থায়নে অ্যালায়েন্সের অনুকূল মনোভাব

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৫, ০০:৩৪

উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যালায়েন্স কারখানার অর্থায়নে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। আগামী এপ্রিল মাস থেকে ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানাগুলোকে অর্থায়নের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার অ্যালায়েন্সভুক্ত ব্র্যান্ডগুলো ঢাকায় বৈঠকে বসছে। মালিকপক্ষের সংগঠন বিজিএমইএ ও অ্যালায়েন্সের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যোগাযোগ করা হলে অ্যালায়েন্সের বাংলাদেশ অফিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ রবিন ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, সংস্কার কাজে অর্থায়নের সমর্থ নয়- এমন ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানার জন্য অর্থায়নের বিষয়ে আগামী মাসে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সে জন্য আমরা কাজ করছি।

তবে কারখানা ভবনের অগ্নি, কাঠামো ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার বিষয়ে কোন ছাড় দিতে রাজি নয় অ্যালায়েন্স। এ সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষা (ডিটেইল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসেমন্ট-ডিইএ) যথাসময়ে করতে তাদের অনড় অবস্থানের কথা মালিকপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যথাসময়ে ডিইএ করেনি এমন ১০৪টি কারখানার বিষয়ে বিজিএমইএকে অবহিত করে অ্যালায়েন্স। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ওইসব কারখানার প্রতিনিধি, বিজিএমইএ ও অ্যালায়েন্সের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে কারখানার কাঠামোগত পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোন ধরনের মান অনুসরণ করতে হবে সে বিষয়ে অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বৈঠকশেষে মেসবাহ রবিন বলেন, কারখানা ভবনের স্থাপনাকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পরীক্ষা করার কথা আমরা জানিয়েছি। এ বিষয়ে মালিকপক্ষের কোন বিভ্রান্তি থাকলে বুয়েটের প্রকৌশলীদের মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়ে তারা আমাদের চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কী কী বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে আমরা তাদের পুস্তিকার মাধ্যমে সব তথ্য জানিয়েছি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম। ‘ইত্তেফাক’কে তিনি বলেন, অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে ডিইএ করেনি বলে যাদের কথা বলা হয়েছে ইতিমধ্যে    পৃষ্ঠা তেমন ৬৭টি কারখানা কাজটি সম্পন্ন করেছে। বাকিরা শিগগিরই ডিইএ সম্পন্ন করবে বলে আমাদের বলেছে। তবে যে সব কারখানা ইতিমধ্যে অ্যালায়েন্স পরিদর্শন করে অনাপত্তি (গ্রিন মার্ক) দিয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে যাতে নতুন কোন শর্ত বা পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা না হয়। এছাড়া কারখানা সংস্কারে অর্থায়নের প্রসঙ্গটিও এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে পানি ছিটানোর বিশেষ যন্ত্র, ফায়ার ডোর স্থাপনসহ এ ধরনের সংস্কারকাজে অর্থায়ন প্রয়োজন। অ্যালায়েন্স এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

রানা প্লাজা ধসের পর কারখানার অগ্নি ও কাঠামোগত ত্রুটি পরীক্ষার লক্ষ্যে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নামে ইউরোপ আমেরিকার দুইটি জোট কাজ করছে। অ্যালায়েন্স প্রায় ৬শ কারখানা পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে। তবে কারখানা সংস্কারে অর্থায়নের কথা বলা হলেও কার্যত তেমন অর্থ পাওয়া যায়নি বলে উদ্যোক্তারা অভিযোগ করে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে।