রাজধানীর মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মনির উদ্দিন মনুকে হত্যার দায়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত হোসেনসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক এবিএম নিজামুল হক এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন মো. মিন্টু, মো. মাসুদুর রহমান তোতা ওরফে তোতলা মাসুদ, লিটন হোসেন লোটাস ওরফে নূরুজ্জামান, মো. নোবান ইবনে বাশার ওরফে বাবু, মাসুদুর রহমান সোহেল এবং মো. হাসান সারওয়ার জিকু। রায় ঘোষণার সময় সোহেল ও জিকু আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা জামিন পাওয়ার পর থেকে পলাতক বলে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি তাছলিমা ইয়াসমিন দিপা জানান। এছাড়া জাহানারা নামে আরেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। জাহানারাও পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিরপুরের ৪৯/৩ শাহআলী বাগের বাসার সামনে মিলাদ মাহফিলের তবারক বিতরণ শেষে খুন হন ১২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মনির উদ্দিন মনু। আসামিরা মনুকে পরপর আটটি গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। হত্যাকাণ্ডের দিনই নিহতের ভাই মো. আকবর আলী থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, শাহাদাত ও মিন্টু মিরপুর এলাকার ব্যবসায়ী মনুর কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে না পেয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর মিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাসির উল্লাহ আসামিদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ওই বছরের ২৭ এপ্রিল চার্জ গঠন করে আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের ২৭ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ঘটনার ৯ বছর পর গতকাল এ রায় ঘোষণা করা হল।
প্রসঙ্গত শাহাদাত হোসেন পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। একসময় মিরপুর এলাকার আন্ডার ওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ ছিলো শাহাদাতের। তার বিরুদ্ধে হত্যা, দখলসহ দুই ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। বিভিন্ন মামলায় ফেরারি হয়ে বর্তমানে সে দেশের বাইরে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের ধারণা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তার অবস্থান। সেখান থেকে টেলিফোনে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে।
