বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং’র উদ্যোগ

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৫, ১১:২৮
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মান, গবেষণা ও পাঠ্যক্রম, অবকাঠামো সুবিধা, কর্মরত শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সুযোগ-সুবিধা, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ কতোটা মানছে এমন একাধিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে র্যাংকিং করার প্রক্রিয়া চলছে। কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উচ্চপর্যায়ের কমিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। এই তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে র্যাংকিং করা হবে। কমিশনের পরিচালক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) শামছুল আলম ‘ইত্তেফাক’কে জানান, ইতিমধ্যে ৩০ থেকে ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকিগুলোও করা হবে।
ইউজিসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হন। কোনটি কোন মানের বিশ্ববিদ্যালয় তা জানতে পারছে না। ফলে লোভনীয় বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। একসময়ে প্রতারিত হবারও শঙ্কা থাকে। অনুমোদন নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন বিভাগেও ভর্তি হয় শিক্ষার্থীরা। র্যাংকিং করা হলে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান কেমন। এর ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীরা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করতে পারবে। এর ফলে প্রতারিত হবার ভয় থাকবে না।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে উচ্চপর্যায়ের ছয়টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটিতে আহবায়ক হিসাবে রয়েছে ইউজিসির চেয়ারম্যান। অন্য পাঁচজন সদস্য পাঁচটি পৃথক কমিটির আহ্বায়ক। কোনদিন কোন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে যাবে তা আহবায়ক ছাড়া অন্যকোন সদস্যকে জানানো হয় না। এই কমিটিতে ইউজিসির কর্মকর্তা ছাড়াও বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসাবে অন্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কমিটি ইতিমধ্যে প্রথমসারির বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। দেখা গেছে, সব বিশ্ববিদ্যালয়েই কমবেশি সমস্যা রয়েছে। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, বেতন কাঠামো, ল্যাবরেটরি সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। শিক্ষার্থীদের জন্য নেই খেলাধুলার কোন সুযোগ-সুবিধা। কোথাও কোথাও পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলেও কোন বেতন কাঠামো নেই। নিয়ম অনুযায়ী দরিদ্র ও মেধাবী/মুক্তিযোদ্ধা এমন ৬ ভাগ শিক্ষার্থীকে বিনা টিউশন ফি’তে পড়ানোর কথা। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই এ নিয়ম মানছে না। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য বা পরিচালকদের আত্মীয়-স্বজন বা বিশেষ সুপারিশের ভিত্তিতে বিত্তশালী শিক্ষার্থীদেরও বিনাবেতনে পড়ানো হচ্ছে। নেই নিয়ম অনুযায়ী ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার। শিক্ষক নেই পর্যাপ্ত। খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধা।  পরিদর্শন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট  এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রথমসারির বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে পরিচিত এমন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধিমালা মানছে না। তিনি জানান, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে কতোজন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে—এ বিষয়টি ইউজিসি কর্তৃক নির্ধারণ করে দেয়া আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ নিয়ম না মেনে একাধিক সেকশন খুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে, যা বেআইনী ও অনৈতিক। বিষয়টি ইউজিসির গোচরে আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ইউজিসির সচিব মো. খালেদ জানান, তার কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনশেষে রিপোর্ট ইউজিসির কাছে জমা দিয়েছে। পরিদর্শনে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও বিশ্ববিদ্যালয় আইন না মানার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুই সদস্যের পদ শূন্য, পরিদর্শনে ভাটা
ইউজিসির দুই সিনিয়র সদস্য প্রফেসর ড. মো. মুহিবুর রহমান এবং প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলীর মেয়াদ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এ কারণে তারা ইউজিসিতে না থাকায় আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। ইউজিসি সূত্র জানায়, সদস্য ড. আতফুল হাই শিবলী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করতেন। তিনি ছিলেন এই কার্যক্রমের অন্যতম উদ্যোক্তা। ড. মো. মুহিবুর রহমান ও আতফুল হাই শিবলী না থাকায় তাদের কমিটির কার্যক্রম আপাতত বন্ধ আছে। ইউজিসির সচিব মো. খালেদ জানান, একটি কার্যকর পরিদর্শন কার্যক্রমের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত তথ্য দিয়ে র্যাংকিং করা হলে তা ভালো ফল বয়ে আনবে।