রাজনৈতিক অস্থিরতার ধাক্কা রাজস্বে

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৫, ১১:৫৪
 
গত জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়া ধর্মঘট আর হরতালের ধাক্কা লেগেছে রাজস্ব আদায়ে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ২ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি দৃশ্যত স্বাভাবিক হয়ে এলেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতিও সহসাই ফিরছে না। এ পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশংকা রয়েছে।
এনবিআরসূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেবল ভ্যাট আদায়েই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি ২ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শুল্ক আদায় বাড়লেও আয়কর আদায়ে ঘাটতি প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।
রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতির ওপর পর্যালোচনা করে চলতি অর্থবছরে সম্ভাব্য রাজস্ব আদায়ের একটি চিত্র তুলে ধরেছে এনবিআর। এনবিআরের ওই পর্যালোচনায় বলা হয়, চলতি অর্থবছর সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হতে পারে। অন্যদিকে এবার রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। এ অবস্থায় আগামী মাসে গত অর্থবছরের ন্যায় লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনতে পারে অর্থ মন্ত্রণালয়। গতবছরও কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় না হওয়ায় বছরের শেষ দিকে ১১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়। অবশ্য বছর শেষে তাও আদায় হয় নি।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামও রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনার প্রয়োজন হবে বলে মত দিয়েছেন। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনের কোন সম্ভাবনা দেখছি না। সেক্ষেত্রে মধ্যমেয়াদে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার আকার কমিয়ে আনার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি বলেন, ব্যবসা খারাপ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দিতে চাইবে না। এসব কারণে ব্যাংকিং খাতে অপরিশোধিত ঋণ বাড়তে থাকায় কর্পোরেট ট্যাক্স আদায়ও কমবে। ফলে স্বভাবতই রাজস্ব আদায় বড় ধাক্কা খাবে। এ ধরনের লক্ষণগুলোও ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে।
এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে ৮২ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭৯ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে শুল্ক আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। তবে ৩৩ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। ২৫ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয়কর আদায় হয়েছে ২৪ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে ভ্রমণ কর ও অন্যান্য কর মিলিয়ে ৬১৩ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৫৮ কোটি টাকা।
আলোচ্য সময়ে মোট রাজস্ব আদায় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। যদিও চলতি অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ২৪ শতাংশ। গত অর্থবছর সাড়ে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। মির্জ্জা আজিজ মনে করেন, ২৪ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কঠিন। স্বাধীনতার পর কখনোই এই হারে রাজস্বের প্রবৃদ্ধি হয় নি। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়াই স্বাভাবিক।
অবশ্য সমপ্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। এজন্য যা যা করণীয় তা-ই করা হবে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ৭৯ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা আদায় হলেও বাকি চার মাসে আদায় করতে হবে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা।