ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কা বিএনপিতে

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৫, ১২:৫০
 
আসন্ন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে কি না এ নিয়ে নিয়ে শঙ্কিত বিএনপি। বিশেষ করে দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে থাকলেও মাঠে থাকতে পারবেন কি না তা নিয়ে দলে উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রদর্শন করবে না— এমন সন্দেহ পোষণ করছে দলটি। তারা মনে করছে প্রার্থীদের সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করছে নির্বাচন কমিশন।
এসব নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল অচিরে নির্বাচন কমিশনে যাবে। তারা কয়েকটি দাবি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে আছে:লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করে প্রার্থীদের এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের অবাধে নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ নিশ্চিত এবং নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। যেসব প্রার্থী ইতিমধ্যে নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন এবং আগামীতেও করতে পারেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া, পেশীশক্তির ব্যবহার, ভোট জালিয়াতি ও ভোট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলে বা অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। অভিযানের নামে বিরোধী দলের প্রার্থীদের বাড়িতে তল্লাশি ও গ্রেফতার বন্ধ করা। মেয়র, কাউন্সিলরসহ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জড়িত নেতাকর্মী-সমর্থক ও নির্বাচনী এজেন্টদের ফলাফল ঘোষণার আগে-পরে গ্রেফতার না করা। নয়া পল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সকল রাজনৈতিক অফিস খুুলে দেয়া, বিরোধী দলের কারাবন্দি সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে মুক্তি দেয়া এবং প্রার্থী কিংবা বিরোধী দলের যারাই মামলায় অভিযুক্ত, আদালতে গেলে তাদের জামিনে বাধা সৃষ্টি না করা প্রভৃতি। এর আগে প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ‘শত নাগরিক’ কমিটির প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আলোচনা এবং ৬ দফা দিয়েছিল। কিন্তু কমিশন তাদের দাবি আমলে নেয়নি।
বিএনপির দায়িত্বশীল একজন সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপি সিটি নির্বাচনকে আন্দোলনের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। তাই আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকতে চাই। কিন্তু নেতাকর্মীদের নামে একাধিক মামলা থাকায় গ্রেফতারের আশঙ্কা আমাদেরকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। তিনি বলেন, গ্রেফতারের ভয়ে আসাদুজ্জামান রিপন ছাড়া আর কেউ সশরীরে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাননি। দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে— ঢাকা উত্তরে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি আত্মগোপনে আছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, দলের অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু। মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ২০টির বেশি মামলা আছে। মির্জা আব্বাস বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত। তার বিরুদ্ধে আরো ২০টির মত মামলা আছে। তিনি কারাগারে। আবদুস সালামের বিরুদ্ধে মামলা আছে প্রায় দুই ডজন। তিনিও আত্মগোপনে।
এ অবস্থায় তারা কীভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামবেন?
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, এখন পর্যন্ত তাদের কাউকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত হয়নি। যথাসময়ে সেটা চূড়ান্ত হবে। গুলশান অফিসে থাকা একজন নেতা জানান, ১ ও ২ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বাছাই। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত বিএনপি অপেক্ষা করবে। যারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকবেন তাদের মধ্য থেকে সমর্থন দেয়া হবে।
এদিকে গতকাল দলের পক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নির্বাচনী পরিবেশকে সরকার পক্ষপাতদুষ্ট ও আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল­াহ বুলু স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকার বিভক্ত দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আচরণবিধির ওপর কড়াকড়ি আরোপের কথা বললেও এখনও পর্যন্ত তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিবৃতিতে ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় সিটি নির্বাচনকে অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকার সচেষ্ট হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।