নিউজিল্যান্ডের দীর্ঘদিনের সাথী সাবেক অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরি শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েই দিলেন। ব্ল্যাক ক্যাপসদের হয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ, এমন ঘোষণাই আজ দিয়েছেন এই কিউই তারকা।
মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্বপ্নের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ উইকেটে পরাজিত হলেও রোববার ঘরে ফেরার পরে বিরোচীত সংবর্ধনাই পেয়েছে পুরো নিউজিল্যান্ড দল। আর দেশে ফিরেই ভেট্টরি ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ঘোষনা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডের হয়ে এটাই আমার শেষ ম্যাচ ছিল। আমি মনে করি এটা দারুন একটি শেষ ছিল। অবশ্যই জিততে পারলে বিষয়টা আরো সুখকর হতো। কিন্তু আমি সত্যিকার অর্থেই সকলকে নিয়ে দারুন গর্বিত। গত ছয় সপ্তাহ ধরে আমরা যা দেখিয়েছি তা এককথায় অসাধারন।’
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটও এক টুইটার বার্তায় ড্যানিয়েল ভেট্টরির আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিশ্ব ওয়ানডে বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ১২তম স্থানে থাকা বাঁহাতি এই স্পিনার বিশ্বকাপে ১৫টি উইকেট দখল করেছেন। বিশ্বকাপে এটা অষ্টম সেরা পারফরমেন্স। এর মধ্যে ছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৮ রানে ৪ উইকেট প্রাপ্তি। ১৮ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরে ৩৬ বছর বয়সী ভেট্টরির এই অবসরের ঘোষনা অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৯৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভেট্টরির টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কিউইদের হয়ে ১১৩ ম্যাচে ৩৪.৩৬ গড়ে ৩৬২ উইকেট দখল করেছেণ। রান করেছেন ৪,৫৩১ যার মধ্যে ছিল ছয়টি সেঞ্চুরি। ভারতের কপিল দেব এবং ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথামের পরে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টে ৩০০’র উপরে উইকেট এবং চার হাজারের উপরে রান সংগ্রহ করা একমাত্র খেলোয়াড় ছিলেন ভেট্টরি।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তিনি ২৯৫ ম্যাচে ৩১.৭১ গড়ে ৩০৫ উইকেট ছাড়াও ব্যাট হাতে করেছেন ২২৫৩ রান।
নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম স্বীকার করেছেন ফাইনালের আগে অনুশীলনের সময় পেশীতে টান পড়ার পরেও ফাইনাল ম্যাচে ভেট্টরি ৫ ওভার বল করে বিনা উইকেটে ২৫ রান দিয়েছেন। ম্যাককালাম বলেছেন, ‘অগাধ আত্মবিশ্বাস নিয়েই ভেট্টরি মাঠে নেমেছিল এবং নিজের কাজটুকু যথার্থই সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছেন। তার বিদায়ে আমরা সর্বকালের সেরা একজন খেলোয়াড়কে হারালাম। দল তার অনুপস্থিতি সবসময়ই অনুভব করবে। তার অভাব পূরণ হবার নয়। তার সাথে খেলাটা সত্যিই সৌভাগ্যের।’
-বাসস।
