এখন থেকে ট্রান্সফাস্টের যে কোনো গ্রাহক বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের যে কোনো অ্যাকাউন্টে তাত্ক্ষণিকভাবে টাকা জমা রাখতে পারবেন। আন্তর্জাতিক কোনো অর্থ প্রেরণ কোম্পানির উদ্যোগে বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য তাত্ক্ষণিক ব্যাংক ডিপোজিট সেবা প্রদান দেশে এটাই প্রথম। আন্তর্জাতিক অর্থ প্রেরণ কোম্পানি ট্রান্সফাস্ট এলএলসি এবং বাংলাদেশের ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড এর মধ্যে সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর অভিজাত রেস্টুরেন্টে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সফাস্ট-এর প্রধান নির্বাহী এবং প্রেসিডেন্ট জনাব সামিশ কুমার, ট্রান্সফাস্ট-এর এশিয়া ও আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক জনাব সামির বিধাতে এবং ট্রান্সফাস্ট-এর কানট্রি হেড জনাব মোহম্মদ খাইরুজ্জামান। এছাড়া ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, হেড অব রিটেইল সেলস, রেমিটেন্স অ্যান্ড পে রোল জনাব মামুর আহমেদ, সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার জনাব শাহরিয়ার এম জামিল, হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং জনাব ফিরোজ আহমেদ খান এবং হেড অব কম্যুনিকেশনস অ্যান্ড সার্ভিস কোয়ালিটি মিজ জারা মাহবুব।
গ্রাহকদের জন্য এটি হবে এক বাড়তি সুবিধা বলে মনে করেন ট্রান্সফাস্ট নির্বাহী সামিশ কুমার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ আসে রেমিটেন্স থেকে। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ব্র্যাংক ব্যাংক এক পথিকৃত্। আমাদের গ্রাহকদের জন্য সেখানে নিরাপদে এবং তাত্ক্ষণিকভাবে টাকা জমা প্রদানের সুযোগ করে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। গ্রাহকদের জন্য এটি হবে এক বাড়তি সুবিধা।’
এ সেবার আওতায় ট্রান্সফাস্ট গ্রাহকরা অনলাইন, মোবাইল ফোন কিংবা বিশ্বের যে কোনো স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশে তার পরিবার ও স্বজনের কাছে টাকা পাঠাতে পারবেন। প্রেরণের কয়েক মিনিটের মধ্যে এই টাকা সরাসরি নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা নিতে, কিংবা দেশজুড়ে ছড়ানো হাজার হাজার বুথ অথবা সুবিধামতো যে কোনো এজেন্টের নিকট থেকে তুলে নিতে পারবেন তার প্রিয়জন।
সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমাদান ছাড়াও ব্র্যাক ব্যাংকের ১৬৬টি শাখা, ৫০টি এসএমই ইউনিট অফিস কিংবা এক লাখের ওপর বিকাশ এজেন্টের যে কোনো উত্স থেকে টাকা তুলে নিতে পারবেন ট্রান্সফাস্ট গ্রাহক।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুসারে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহ ছিল দেড় হাজার কোটি ডলার। এ বিবেচনায় আমরা বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম রেমিটেন্স গ্রাহক। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিটেন্সের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ২০১৪ সালের অক্টোবরে অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক ব্রিফে বিশ্বব্যাংক জানায়, গড়পড়তা রেমিটেন্সে বাংলাদেশে একটি পরিবার পাশাপশি থাকা সাধারণ আরেকটি পরিবারের দ্বিগুণ অর্থ উপার্জন করে থাকে। তাছাড়া গ্রাহক পরিবারের সামগ্রিক আয়ের ৮০ শতাংশই হচ্ছে এই রেমিটেন্স নির্ভর।
বাংলাদেশে আসা মোট রেমিটেন্সের প্রায় চার শতাংশ সম্পাদন হয়ে থাকে ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে।
ব্র্যাংক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তাত্ক্ষণিক ব্যাংক ডিপোজিট সেবা প্রদানে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে ট্রান্সফাস্টের সাথে অংশীদারী হতে পেরে আমরা প্রীত। বিদেশে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য উন্নত সেবা ও সুবিধা প্রদানে ট্রান্সফাস্টের আন্তরিক প্রয়াস এবং বাংলাদেশে তাদের পরিবার ও স্বজনের জন্যে উন্নত ও নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং সেবা প্রদানে আমাদের লক্ষ্য একই সূত্রে বাঁধা।’
তিনি বলেন, ‘তাত্ক্ষণিক টাকা জমাদান সুবিধার কারণে সরাসরি টাকা চলে যাচ্ছে বেনিফিসিয়ারির অ্যাকাউন্টে। একে বলা চলে প্রযুক্তি আর অংশীদারিত্বের সমন্বয়ে বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহ ক্রমাগত বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্র্যাংক ব্যাংকের আরও একটি অগ্রণী পদক্ষেপ।’
সবশেষে প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর অধিবেশনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ট্রান্সফাস্ট ও ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এ সময় ব্র্যাক ব্যাংক নির্বাহীর হাতে একটি স্মারক উপহার তুলে দেন ট্রান্সফাস্টের প্রধান নির্বাহী।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
