অপহূত জাপানি নাগরিকদের বিষয়ে আলোচনার অগ্রগতি না হওয়ায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরো দুই বছর বাড়াবে জাপান। এর মধ্যে অর্থপ্রেরণ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জাপানের বন্দরগুলোতে উত্তর কোরিয়ার জাহাজ প্রবেশে অননুমোদনও রয়েছে। চলতি বছর এপ্রিলের ১৩ তারিখে এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। খবর বিবিসির।
৭০-৮০-র দশকে জাপানি নাগরিকদের অপহরণ করে উত্তর কোরিয়ার গুপ্তচররা। পরে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে ১৩ জাপানি নাগরিককে অপহরণের কথাটি স্বীকার করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজনকে ২০০২ সালে জাপানে ফিরে যেতে অনুমতি দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের সন্তানদেরও ছেড়ে দেয়া হয়। অপহূত বাকি আটজন মারা গেছেন এবং জীবিত সবাইকে ফেরত দেয়া হয়েছে বলে উত্তর কোরিয়ার দাবি। কিন্তু জাপান এ বিষয়টির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
২০১৪ সালের মে মাসে দুই পক্ষই অপহরণ নিয়ে পুনরায় সংলাপ শুরু করতে রাজি হয়েছিল এবং কয়েক দফা আলোচনায় অনুষ্ঠিত হয়। তখন অপহরণের বিষয়গুলো পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশন একটি বিশেষ প্যানেলে বসতে পারে বলেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। একই বছর জুলাইয়ে টোকিও নিষেধাজ্ঞা সহজ করে, যদিও কোনো বিধিনিষেধগুলো তুলে নেয়া হয় তা বিস্তারিত জানানো হয়নি। সে সময় জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে বলেছিলেন—দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা বিরোধটির ব্যাপারে পদক্ষেপের আশা থেকে তিনি নিষেধাজ্ঞা সহজ করছেন। কিন্তু এরপর থেকে আর কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি।
অপহরণের এই ইস্যুটি জাপানে খুবই আবেগ সঞ্চারকারী এবং দেশ দুইটির সর্ম্পকের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে। এ নিয়ে এনএইচকে টেলিভিশনকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন—উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত এর তদন্তের ফলাফল জানায়নি এবং কোনো অগ্রগতি হয়েছে কিনা, তিনি তা জানেন না।
উল্লেখ্য, জাপান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
