সমুদ্র সৈকতে ৫৫০০ কচ্ছপের বাচ্চা অবমুক্ত

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৫, ১৯:২৪
কক্সবাজারের টেকনাফে বনবিভাগ ও মেরিন লাইভ এলাইন্সের উদ্যোগে সমুদ্র সৈকত এলাকায় পাঁচ হাজার ৫০০টি কচ্ছপের বাচ্চা অবমুক্ত করা হয়। 
বনবিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলার ফতেআলীয়াপাড়া, হাবিরছড়া ও নোয়াখালীয়াপাড়ায় মেরিন লাইভ এলাইন্সের মাধ্যমে কচ্ছপের বাচ্চা সংরক্ষণে তিনটি হ্যাচারি পরিচালিত হয়ে আসছে। চলতি মৌসুমে এ হ্যাচারিগুলোতে সাত হাজার ৫০০টি কচ্ছপের ডিম সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এরমধ্যে পাঁচ হাজার ৫০০টি বাচ্চা ফোটানোর কাজ সম্পন্ন হয়। পরে পর্যায়ক্রমে এগুলো ভিবিন্ন সময়ে সমুদ্রে অবমুক্ত করা হয়েছে। 
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারি বনসংরক্ষক (এসিএফ) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার সকালে টেকনাফের ফতেআলীয়াপাড়া ও হাবিরছড়া সৈকত এলাকায় ৫৫০টি কচ্ছপের বাচ্চা সাগরে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজারছড়া ও মাথাভাঙার বিট কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ও মেরিন লাইভ এলাইন্সের মো. হাসান। 
এ সময় তিনি বলেন, কচ্ছপগুলো সমুদ্র সৈকতে এসে ডিম পেড়ে আবার ফিরে যায়। কিন্তু সাগরে বিভিন্ন জাহাজ, জেলেদের মাছ ধরা নৌকা এবং জালের কারণে তাদের এ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। অনেক কচ্ছপ জালে আটকা পড়ে মারা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ডিম পাড়লেও সেগুলো শিয়াল, কুকুর ও গুইসাপ খেয়ে ফেলে। ফলে দিন দিন কচ্ছপের বংশবৃদ্ধি কমছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই তারা হ্যাচারিতে ডিম সংরক্ষণের মাধ্যমে বাচ্চা ফুটিয়ে পরে সাগরে তা অবমুক্ত করেন এবং গত এক মাসে এ আইনে তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করা হয়েছে।  
IMG0
মেরিন লাইভ এলাইন্সের টেকনাফের গবেষণা সহকারি মো. হাসান বলেন, সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়, বিশেষ করে খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখতে কচ্ছপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাগরে ময়লা-আবর্জনা খেয়ে পানি পরিষ্কার রাখে। এছাড়া মাছের লাখ লাখ পোনা খেয়ে ধ্বংসকারি নুইন্যা বা জেলি ফিশ কচ্ছপ খেয়ে ফেলে। 
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আওতায় পরিবেশ অধিদপ্তরে সহযোগিতায় কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন স্থানে আরও ১০টি বিভিন্ন সংস্থার সংরক্ষণ হ্যাচারি রয়েছে। এসব এলাকায় একজন করে সংরক্ষণকারী নিয়োগের মাধ্যমে কচ্ছপের ডিমগুলো সংগ্রহ করা হয়।