স্রোতের মুখে গা না ভাসিয়ে স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে কাজ করে চলেছেন দেশের গুণী অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকার। জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী এখন মঞ্চনাটক ও ছোটপর্দায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ব্যস্ততা ও টিভি নাটকের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দিব্যজ্যোতি দত্ত
এখনকার ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই।
এখন কয়েকটি সিরিয়ালে কাজ করছি। কাজ করছি নজরুল ইসলামের ‘লেক ড্রাইভ লেন’, আকরাম খানের ‘ঢাকা হাউজ ওয়াইফ’ মামুনুর রশিদের ‘অক্ষয়’ মতিয়া বানু শুকুর ‘ধন্যি মেয়ে’সহ আরও কিছু নাটকে। এছাড়া মঞ্চের কাজ তো আছেই। আমি মূলত মঞ্চেই বেশি ব্যস্ত থাকি।
চলচ্চিত্রে কাজ করছেন না কেন?
চলচ্চিত্রে কাজ করছি না এখন। অনেকদিনই হয়ে গেছে চলচ্চিত্রে কাজ করা হয় না। এর মানে এই নয় যে আমি চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই না। চলচ্চিত্রে কাজ করতে আমি অবশ্যই আগ্রহী। কিন্তু নির্মাতারা আমাকে নিয়ে কাজ করতে হয়তো আগ্রহী নন।
এখনকার নাটকগুলো দর্শক টানতে পারছে না কেন?
বেশিরভাগ নাটক প্রায় একই ধাঁচের গল্পে নির্মিত হচ্ছে। আর সেসব নাটকেও দেখা যায় নির্দিষ্ট কিছু শিল্পীরাই অভিনয় করছেন। এখন এতগুলো চ্যানেল, এত এত নাটক হচ্ছে। আর সেই নাটকগুলোতে দর্শককে নির্দিষ্ট কিছু শিল্পীদের দেখতে হচ্ছে। দর্শক একই চেহারা প্রতিদিন দেখতে পছন্দ করে না। অথচ নাটকগুলোতে একই চেহারা তাদের দেখতে হচ্ছে। আমি নিজেও কিন্তু আমার পছন্দের শিল্পীদের দেখলেই নাটক দেখি। এছাড়া বিজ্ঞাপনের যন্ত্রণা তো রয়েছেই। বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে দর্শককে নাটক দেখতে হচ্ছে। দর্শক টিভির সামনে বসে বিনোদনের জন্য বিরক্ত হবার জন্য নয়।
কিন্তু বেশি চ্যানেলের সৌজন্যে তো নাটকে প্রতিযোগিতাও অনেক বেশি হবার কথা।
কোথায় প্রতিযোগিতা হচ্ছে। প্রতিযোগিতা হলে তো নাটকের আজকে এই অবস্থা হতো না। এখনও দেখা যাচ্ছে দর্শক নাটক দেখলেও কিছু নির্দিষ্ট অভিনেতার জন্য দেখছে। মোশাররফ করিম, তারিন, বিপাশা হায়াত্ এবং আরও কিছু অভিনেতাদের জন্য টিভির সামনে বসছে। আর যে কয়টা ভালো নাটক হচ্ছে বিজ্ঞাপনের অত্যাচারে সেই নাটকগুলোও দর্শক দেখতে পারছে না। আমার নিজেরই খুব একটা নাটক দেখা হয় না। রিমোট নিয়ে বসলেই শুধু বিজ্ঞাপন আর বিজ্ঞাপন। মাঝে মাঝে নাটকের মাঝে সংবাদও দেখতে হয়। আমাদের চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান পরিবেশনে পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
আপনি অনেক চ্যানেলের কথা বললেন। পার্শ্ববর্তী দেশটিতেও কিন্তু এখন অনেক চ্যানেল। এসব চ্যানেলের ভিড়েই দর্শক তাদের পছন্দের নাটক দেখছে।
হ্যাঁ, কারণ সেখানে তো বিজ্ঞাপনের অত্যাচার নেই। বিজ্ঞাপনের আগে তারা বলে দিচ্ছে কত সময়ের বিরতি নেয়া হচ্ছে এবং ঠিক সেই সময় শেষেই তারা নাটকে ফিরে আসছে। এছাড়া নাটকের মাঝে সেখানে সংবাদও পরিবেশন করা হয় না।
একই ধরণের গল্পে নাটক নির্মাণ হচ্ছে। শিল্পীরা কাজও করছেন। দায়িত্বশীলতার কথা বলা হলে শিল্পীরা কি তাদের অবস্থানে ঠিক আছেন?
আমার কথা বলতে পারি যে আমি আমার জায়গা থেকে ঠিক আছি। এখনও আমি নির্দিষ্ট কিছু নির্মাতার নাটকেই কাজ করি। তবে সেক্ষেত্রেও নাটকের গল্প-চরিত্র আমার পছন্দ হতে হবে। নয়তো আমি কাজ করি না। অন্যদের মতো আমি অনেক বেশি কাজও করি না। কারণ আমিও একজন মানুষ। এত বেশি নাটকে কাজ করলে নাটকের মান ঠিক থাকে না। তাই আমি বলতে পারি, আমার অবস্থান থেকে আমি যতটা সম্ভব দর্শককে ভালো কিছু উপহার দেবার চেষ্টা করি।
