ক্রিকেট নিয়ে আর নয় রাজনীতি

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৫, ১২:০৫
বর্তমান বিশ্বে জনপ্রিয় একটি খেলা ক্রিকেট। আর ক্রিকেটের সর্ববৃহত্ আসর ওয়ানডে ‘বিশ্বকাপ’। বাংলাদেশ ১৯৯৯ সাল থেকে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। টাইগারদের সব আসরকে ছাপিয়ে এবারের আসরটি অনন্যরূপে উদ্ভাসিত হয়েছে। আমরা দেখেছি গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচই টাইগাররা নিজেদের সেরাটা দিয়ে কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর মন জয় করে নিয়েছে। তারা গ্রুপ পর্বে অন্যতম ক্রিকেট পরাশক্তি ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে পদার্পণ করে।
কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ শুরুর আগ থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। আমাদের ষোল কোটি বাঙালির বিশ্বাস ছিল টাইগাররা নিজেদের খেলা ধারাবাহিকভাবে ধরে রাখতে পারলে ভারত কেন সব দলকেই হারাতে পারবে। সেই প্রত্যয়ই সবার ছিল ভারতের ম্যাচে। কিন্তু ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি নিজেই যখন নড়বড়ে হয়ে যায়; সেই প্রত্যয় আর বাস্তবায়িত হতে পারে না। আমরা দেখেছি ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বাজে আম্পায়ারিং হয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের ম্যাচে। ম্যাচে রুবেল হোসেনের বলে রোহিত শর্মার ক্যাচ তুলে দেওয়া আর সেই বলকে আম্পায়ার ইয়ান গৌল্ড নো-ডাকা, মাশরাফির বলে সুরেশ রায়না এল.বি হয়েও তা না পাওয়া এবং বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ছয়কে আউট দেওয়া। সব মিলিয়ে একের পর এক আম্পায়ারদের বাজে আম্পায়ারিংয়ে ভারতের দেওয়া ৩০২ রানের টার্গেট পূরণ করতে টাইগাররা স্বাভাবিক খেলায় আর ফিরতে পারেনি। এ বাজে আম্পায়ারিংয়ের বিষয়ে গঠনমূলক কথা না বলে বরং তার সাফাই গেয়েছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী। আইসিসির এসব কর্মকাণ্ডেই আমরা বুঝতে পারি তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য কী ছিল। তবে এসব নিন্দিত বিষয়সমূহর কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক ও বর্তমান অনেক ক্রিকেটার। ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান কিংবদন্তি ভিভিএস লক্ষণ বলেছেন—‘গৌল্ডের সিদ্ধান্তটা একদমই বাজে। বলটা নিশ্চিতভাবেই কোমরের ওপরে ছিল না। রোহিত সৌভাগ্যক্রমে আরেকটা জীবন পেল। এটাই হয়তো আরো ২০টা রান বেশি তুলে দেবে ভারতকে।’ সাবেক বিখ্যাত স্পিনার শেন ওয়ার্ন প্রতিবাদের ভাষায় বলেছেন—‘এটা কোনোভাবেই নো-বল ছিল না। কোমরের নিচে ছিল বল। এটা ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত। ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করে দিল।’ সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হোসেন বলেন—‘অবিশ্বাস্য। এক ম্যাচে এরকম দুটো সিদ্ধান্ত একটা দলকে ছিটকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ এছাড়া আইসিসির সভাপতি মোস্তফা কামাল এবং সৌরভ গাঙ্গুলী, স্টিফেন ফ্লেমিং, রিকি পন্টিং, কপিল দেব, গ্রায়াম স্মিথ, ব্রায়ান লারা প্রমুখ ক্রিকেট খ্যাতিমানরা আম্পায়ারদের কঠোর সমালোচনা করেন। আমরা ক্রিকেট নিয়ে রাজনীতি দেখতে চাই না, ক্রিকেটকে শুধু ক্রিকেট হিসেবেই দেখতে চাই। আমি শুধু একজন বাঙালি টাইগার সমর্থক হিসেবে নয়; একজন ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবেও বলতে চাই—১৯ মার্চ ২০১৫তে ক্রিকেট ইতিহাসে যে কালো অধ্যায় রচিত হয়েছে তা যেন ভবিষ্যতে আর কোনো খেলায় রচিত না হয়।