উত্তরে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী তাবিথ না মাহী?

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৫, ০১:০৮

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন দল-জোটগতভাবে সমর্থন দিতে বিকল্প প্রার্থী খুঁজছে বিএনপি। মিন্টুর বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে দলটি। একই সঙ্গে বিকল্প হিসেবে কাকে সমর্থন দেয়া হলে ফল ইতিবাচক হবে— তা নিয়েও চলছে নানামুখী হিসাব-নিকাশ। সেক্ষেত্রে মিন্টুপুত্র তাবিথ আউয়ালের বিষয়েই ভাবা হচ্ছে। দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরীর নামও রয়েছে বিএনপির বিকল্প ভাবনায়।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথমদিনে গতকাল বুধবার মিন্টুর সমর্থক আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা উত্তরের ভোটার না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মিন্টু বিএনপিসহ ২০ দল সমর্থিত প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্তই ছিল। তবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এবং উত্তরে দলের উল্লেখযোগ্য অন্য কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় বিপাকে পড়েছে বিএনপি। অবশ্য মিন্টুপুত্র তাবিথের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি। বিকল্পধারার মাহী বি. চৌধুরীর মনোনয়নপত্রও বৈধতা পেয়েছে।
বাবার সমর্থক উত্তরের ভোটার না হওয়ার কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার বিষয়ে তাবিথ আউয়াল গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘ভুলটা আসলে আমারই। কারণ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, পূরণ করে জমা দেয়াসহ প্রস্তাবক-সমর্থক সংগ্রহকাজের সঙ্গে আমিই যুক্ত ছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি। এ রকম পরিস্থিতি হবে চিন্তাও করিনি। এখন দেখি কী করা যায়।’ তাবিথ জানান, মিন্টুর মনোনয়নপত্র পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাতে গতকালই তারা ইসিতে গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিভাগীয় কমিশনে এ ব্যাপারে আপিল করা হবে। উল্লেখ্য, আইন অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনদিনের মধ্যে আপিল করা যায়।
অনিচ্ছতাকৃত বা অসাবধানতাবশত ভুল হয়েছে বলে তাবিথ বললেও এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে নানা কথাবার্তাও হচ্ছে। গতকাল কাউকে কাউকে এমনও বলতে শোনা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু পরিকল্পিতভাবেও এই ‘ভুল’ করে থাকতে পারেন। এর পক্ষে বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়ে তাদের কেউ কেউ বলছেন, দ্বি-খণ্ডিত সিটি করপোরেশনের মেয়র হতে আগ্রহী নন মিন্টু। অথবা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিটি নির্বাচন করার মতো ঝুঁকি নিতে চাননি তিনি। যদিও এ ব্যাপারে কারও কাছে কোনো তথ্য নেই।
এদিকে মিন্টু যদি শেষ পর্যন্ত আপিলেও হেরে যান, তাহলে দল ও জোটের পক্ষ থেকে কাকে সমর্থন দেয়া হলে ফল ঘরে আসবে—তা নিয়ে সবদিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে বিএনপির নেতৃত্ব। মাহী বি. চৌধুরী যেহেতু বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, বিকল্পধারাও যেহেতু ২০ দলীয় জোটভুক্ত নয়—সেই কারণে তাকে সমর্থন দেয়া না দেয়ার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দল ও জোটের একাংশের অভিমত, তাবিথ আউয়াল রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না হলেও মিন্টুর পুত্র হিসেবে তিনি বিএনপিরই প্রতিনিধিত্ব করবেন। দল ও জোটের স্থানীয় নেতা-কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের কাছেও বিষয়টি সহজে গ্রহণযোগ্য হবে। আরেকাংশের মতে, তাবিথ রাজনীতি কিংবা ভোটের ময়দানে পরিচিত মুখ নন। এদিক থেকে মাহীর পরিচিতি বেশি। সমর্থন দেয়ার শর্তে বরং মাহী ও তার বাবা অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন এই অংশটি।
বাবার অবর্তমানে বিএনপিসহ ২০ দল সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতার বিষয়ে তাবিথ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে, ঠিক আছে। কিন্তু বাবার বদলে আমাকে নির্বাচন করতে হবে—এরকম কোনো মানসিক প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত আমার নেই। এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমি প্রস্তুতও ছিলাম না, চিন্তা-ভাবনাও করিনি। তারপরও দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, পরিস্থিতির আলোকেই সিদ্ধান্ত নেবো।’

আর মাহী বি. চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘এখনও খেলা শেষ বলে মনে হচ্ছে না। মিন্টু সাহেব আপিল করবেন, সেখানে কী হবে জানি না। যদি শেষ পর্যন্ত মিন্টু সাহেব না থাকেন—তাহলে বিএনপির উচিত আমাকেই সমর্থন দেয়া। এখন ওই দলে না থাকলেও আমি তো বিএনপিরই ঘরের ছেলে, এটা তো আমি অস্বীকার করি না। আমি এই দলের এমপি ছিলাম। এ রকম নানা কারণেই বিএনপিসহ ২০ দলের সমর্থন দাবি করার অধিকার আমার রয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ ভোটারদের কাছেও আমার সেই দাবি আছে।’