পদত্যাগ করার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, দেশে ফিরে আইসিসিকে যারা নষ্ট করছেন, তাদের নাম প্রকাশ করবেন এবং প্রয়োজনে পদত্যাগ করবেন। গতকাল বুধবার শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে এক সংবাদ সম্মেলনে আইসিসি সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁঁড়ানোর কথাই জানালেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
গত ২৯ মার্চ মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে সভাপতি মুস্তফা কামালকে পুরস্কার মঞ্চ থেকে দূরে রাখে আইসিসি; যেখানে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ট্রফি তুলে দেয়ার কথা তারই। এই ‘অসাংবিধানিক’ কাজের প্রতিবাদে এবং আইসিসিতে কিছু ‘নোংরা’ লোকের ব্যাপারে সত্য উদঘাটনের স্বার্থে তিনি সরে দাঁড়ালেন বলে জানান এই ক্রীড়া সংগঠক। এর মধ্য দিয়ে আইসিসিতে সভাপতি হিসেবে মুস্তফা কামালের ৯ মাস পর্বের সমাপ্তি ঘটলো। যদিও তার পদত্যাগ প্রাপ্তির খবর নিশ্চিত করেনি আইসিসি।
২০১২ সালের ৯ অক্টোবর কলম্বোতে অনুষ্ঠিত সভায় মুস্তফা কামালকে সংগঠনটির শেষ সহ-সভাপতি মনোনীত করা হয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের জুলাই মাসে সংগঠনটির আলঙ্করিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। কারণ, কলম্বো সভাতেই সিদ্ধান্ত হয় যে, ২০১৪ সাল থেকে আইসিসির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হবেন নতুন সৃষ্ট চেয়ারম্যান পদাধিকারী।
মুস্তফা কামালের সভাপতি হিসেবে তেমন ক্ষমতা না থাকলেও কিছু সম্মানজনক অধিকার ছিলো। গতকাল তিনি বললেন, সে অধিকারই ক্ষুণ্ন করা হয় তাকে ট্রফি দেওয়া থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে। ক্রিকেট খেলাটি হয় আইনের মাধ্যমে, একটি সংবিধানের মাধ্যমে। এখানে কার কী কর্তব্য এবং সভাপতি হিসেবে আমার কী দায়িত্ব সেটাও বলা আছে। এখন আমাদের সংবিধান মোতাবেক এর অনুচ্ছেদ ৩.৩(বি) ধারা মোতাবেক আইসিসির যেসব ওয়ার্ল্ড ইভেন্টগুলো হয়, সে সমস্ত ইভেন্টে ট্রফি দেওয়ার দায়িত্ব থাকে সভাপতির ওপর। সেখানে কোনও রকম বিচ্যুতি অনুচ্ছেদ নেই। তাহলে গত ২৯ মার্চ মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের যে খেলা হলো চ্যাম্পিয়নস দলকে ট্রফি দেওয়ার কথা ছিল আমার। কিন্তু আমি সেটা দিতে পারি নাই। এটা সংবিধানের অবমাননা।
কামাল জানান, এই ঘটনার আগের দিনই ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচে আম্পায়ারিং নিয়ে তার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ক্ষমা চাইতে বলা হয় তাকে। সেটা না করাতেই আইসিসির কিছু লোক এমন অবমাননাকর সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে বিতর্কিত আম্পায়ারিং নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
বাংলাদেশি এই ক্রিকেট সংগঠক বিষয়টি স্পষ্ট করেন এভাবে, কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে অনেক অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনা দেখেছেন তিনি। বলেন, মাঠে গিয়েই প্রথমে দেখলাম স্পাইডার ক্যামেরা নেই। মেলবোর্নের মাঠে এই প্রথম খেলা হলো স্পাইডার ক্যামেরা ছাড়া। যে জায়ান্ট স্ক্রিন আছে, এর মালিকও আইসিসি। আমরা যখন বিশ্বকাপ করেছিলাম তখন পোস্টারে দাড়ি, কমা আইসিসির অনুমতি নিয়ে করতে হয়েছে। খেলা শুরুর পর আমি দেখলাম জায়ান্ট স্ক্রিনে লেখা আছে—জিতেগা রে ভাই জিতেগা, ইন্ডিয়া জিতেগা। আমি এটা দেখে সাথে সাথে আইসিসির সিইওকে বললাম এটা বন্ধ করুন। তিনি সরাসরি কমার্শিয়াল ম্যানেজারকে বললেন এটা বন্ধ করো। কিন্তু বন্ধ করা হলো না। যে সিদ্ধান্তগুলো বিতর্কিত ছিল সেগুলোতেও অন্য ম্যাচের মতো প্রযুক্তি ঠিকমতো ব্যবহার করা হলো না। ব্যবহার না করার কারণে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তগুলো বিতর্কিত দেখতে পেলাম।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কামাল অবশ্য পরিষ্কার করে দেন সংগঠন হিসেবে আইসিসি বা ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। তার আপত্তি কয়েকজন ‘দুর্নীতিবাজ’ সংগঠক ও কর্মকর্তাকে নিয়ে। যাদের হাতে ক্রিকেট খেলা থাকলে খেলাটি অচিরেই নষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ প্রসঙ্গে কামাল বলেন, ‘আমি আবারও অনুরোধ করছি, এই ধরনের লোকদের ক্রিকেট থেকে দূরে রাখা হোক। তা না হলে ক্রিকেট শেষ হয়ে যাবে, ক্রিকেট এইসব নষ্ট লোকদের হাতে চলে যাবে। আমি আবারও আইসিসিকে বলবো, এই ব্যাপারগুলো পুনর্বিবেচনা করার জন্য।’
