বস্তিতে মাদক ব্যবসা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৩৮
ঢাকা সিটি উত্তরের ৭ নং ওয়ার্ডে বেশিরভাগ এলাকাই পরিকল্পিত। সরকারি প্রকল্প রূপনগর আবাসিক এলাকা এই ওয়ার্ডে অবস্থিত। কিন্তু পরিকল্পনা ছাড়া বাকি যে অংশ রয়েছে সেখানটাই এলাকাবাসীর উদ্বেগের কারণ। এলাকার আশপাশ ঘিরে গড়ে ওঠা বস্তিতে মাদকের ব্যবসা এখন নিয়মিত ব্যাপার। যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই সব বস্তিতে বিক্রি হয় মাদক।  জানতে চাইলে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ। এ থেকে রক্ষা করতে হবে। টিএম হান্নান নামে অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা এমন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি সবার কথা শুনবেন।
মনিপুর স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আছমাউল হুসনা বলেন, শিয়ালবাড়ির রাস্তা বছরের পর বছর ভাঙা থাকে। রাস্তায় পানি জমে থাকে সব সময়। শিক্ষার্থীরা এই স্থান থেকে হেঁটে স্কুলে যেতে পারে না। আশা করছি পরবর্তীতে নির্বাচিত কাউন্সিলর এসে এই সমস্যার সমাধান করবেন। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিক দিয়ে অনেকটা এগিয়ে এই এলাকাটি। এ কারণে অনেকে এই এলাকাকে ‘শিক্ষা এলাকা’ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেয়। এখানে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের রূপনগর শাখা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত রূপনগর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, কামাল আহমেদ মজুমদার স্কুল, রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। এলাকার জনসংখ্যার তুলনায় স্কুলের আসন সংখ্যাও বেশি। এছাড়া রয়েছে ২০টির  অধিক কোচিং সেন্টার। এ বিষয়গুলো তুলে ধরে স্থানীয় অধিবাসী আজহারুল ইসলাম বলেন, এগুলো তো আশার কথা। কিন্তু পানির লাইন সংস্কারের জন্য বছরের বেশিরভাগ সময় রাস্তা কেটে রাখা হয়, যা এলাকাবাসীর ভোগান্তির অন্যতম কারণ। হালিম নামে এক স্থানীয় অধিবাসী বলেন, রূপনগরের এই রাস্তা দিয়ে যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। কিন্তু সংকীর্ণ রাস্তায় বাস চলাচলের কারণে ঝুঁকি নিয়ে লোকজনকে চলাচল করতে হয়।
গত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় মিরপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন রাস্তাগুলো সংস্কার করার ফলে মিরপুর-২ নং সেকশনের রাস্তাঘাট নিয়ে তেমন অভিযোগ নেই এলাকাবাসীর।
এই এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন ১৪ জন। এরা হলেন আবদুস সোবহান, সেলিম দেওয়ান, শেখ নাছির উদ্দিন, শেখ আক্তার হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, কামাল হোসেন রিপন, তোফাজ্জল হোসেন, রবিউল আউয়াল, মুন্সী বজলুল বাছিদ আনজু, দেলোয়ার হোসেন দুলু, মোবাশ্বের চৌধুরী, মিজানুর রহমান, স্বপ্না আহমেদ, সাইদুল ইসলাম খান।
এর মধ্যে মহানগর উত্তরের সভাপতি মোবাশ্বের চৌধুরী এবং বিএনপি নেতা মুন্সী বজলুল বাছিদ আনজুর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এমনটিই বলছেন বেশির ভাগ মানুষ। মোবাশ্বের চৌধুরীর নির্বাচনে অংশ নেয়ার ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত অন্য প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেন এমন আভাস দিয়েছেন অনেকেই। তবে এই ওয়ার্ডে নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় নেই কেউ। দু’একটি পোস্টার দেখা গেছে বিভিন্ন দেয়ালে। মুন্সী বজলুল বাছিদ আনজুর পক্ষে কেউ এখনো প্রচারণায় নামেনি। বিএনপির এই নেতার সহকর্মী হিসাবে পরিচয় দিয়ে আরিফুল আলম বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে আছেন। আত্মগোপনে থেকেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিবেন।