আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোতে যোগ দিতে ২৫ হাজারেরও বেশি বিদেশি যোদ্ধা দেশ ছেড়েছেন বলে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন—বিদেশি যোদ্ধাদের এই স্রোত ‘ঐতিহাসিকভাবে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি’। খবর বিবিসির।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের দেয়া ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—কমপক্ষে ১০০ দেশ থেকে আসা ২৫ হাজারের বেশি বিদেশি যোদ্ধা ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, পাকিস্তানসহ আরো কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়—বিদেশি যোদ্ধা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি তাত্ক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি হুমকি। এসব যোদ্ধাদের শনাক্তকরণে সহযোগিতা করতে দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানেরও জন্য আহবান জানান বিশেষজ্ঞরা।
আল-কায়েদার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী ওই বিশেষজ্ঞ প্যানেল জানায়—২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত সারা বিশ্বে যোদ্ধার সংখ্যা ৭১ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়—সবচেয়ে বেশি প্রায় ২২ হাজারের মতো যোদ্ধা ইরাক ও সিরিয়ায় তত্পর রয়েছে। এ সব বিদেশি জঙ্গিদের অনেকে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস ও আল-নুসরা ফ্রন্টের পক্ষে লড়াই করছে। এ দিকে, আফগানিস্তানে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার বিদেশি যোদ্ধা সক্রিয় আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ইয়েমেন, লিবিয়া ও পাকিস্তানে কয়েক শ বিদেশি যোদ্ধা, সোমালিয়া ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশ ও ফিলিপাইনে এক শর মতো বিদেশি যোদ্ধা লড়াই করছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়—তিউনিসিয়া, মরক্কো, ফ্রান্স, রাশিয়া, মালদ্বীপ, ফিনল্যান্ড, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, আফ্রিকার সাহারা অঞ্চলের দেশগুলো থেকে এই যোদ্ধারা যোগ দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ওই প্যানেলটি যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে পেরেছে।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়—ইরাক ও সিরিয়া যাওয়ার জন্য তুরস্ককে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে তুরস্ক হয়ে সাড়ে ১২ হাজার ব্যক্তি সিরিয়া ও ইরাকে গেছে।
