আসছে বাজেটে দেশীয় শিল্প রক্ষায় শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তারা। এ লক্ষ্যে মৌলিক কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী কাঁচামালের শুল্ক প্রত্যহার বা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশে উত্পাদিত হয় এমন পণ্য আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক (এসডি) ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) বাড়ানোরও দাবি তাদের। বৃহস্পতিবার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ দাবি জানান। এ সময় আবাসন মালিকদের সংগঠন রিহ্যাব বৈধপথে অর্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ এ খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব সংস্থা থেকে দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যে সব উত্পাদক বা ব্যবসায়ী রেয়াত নিতে ব্যর্থ হবেন তাদের ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ না করে হ্রাসকৃত হারে কার্যকর করারও দাবি তাদের।
রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন উত্পাদনকারী ও আমদানিকারকদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ সময় রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন আবাসন খাতের চলমান মন্দা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন—চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ শিল্প এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প ফি ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) বিদ্যমান হার থেকে অর্ধেকে নামিয়ে আনার দাবি জানান। অপ্রদর্শিত অর্থ এ খাতে টানা ৫ থেকে ১০ বছর বিনিয়োগে দায়মুক্তি দেয়া, গৃহায়ণে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আয়কর কমানো, বিনাশুল্কে অগ্নি ও ভবনের নিরাপত্তাসামগ্রী আমদানির সুযোগ, সাপ্লায়ার ভ্যাট ও উেস কর সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে ডেভেলপারকে অব্যাহতি দেয়া, বিকেন্দ্রীকরণ নগরায়ণের লক্ষ্যে কর অবকাশ, এ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উত্সাহিত করতে নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে আনা, পরিবেশবান্ধব হিসেবে (লীড) সনদপ্রাপ্ত ভবনকে আয়কর রেযাত দেয়া ও গৃহায়ণ শিল্পে ব্যবহূত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়া হয়।
প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি জসীম উদ্দিন আলোচনায় অংশ নিয়ে এ শিল্প খাতের ক্ষেত্রে যারা উপকরণ রেয়াত নিতে ব্যর্থ হবেন, তাদের জন্য বিদ্যমান ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব দেন। সেই সঙ্গে আগামী ১০ বছর প্লাস্টিক খাতকে কর অবকাশ দেয়া, এ খাতের রপ্তানির ক্ষেত্রে উেস কর গার্মেন্টস খাতের ন্যায় দশমিক ৩ শতাংশ করা, করপোরেট কর আড়াই শতাংশ হারে কমিয়ে আনা ও ব্যাক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বিদ্যমান ২ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে আড়াই লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন তিনি।
এ সময় স্টিল বিল্ডিং ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, ওষুধ শিল্প সমিতি, মেলামাইন প্রস্তুতকারক, বাইসাইকেল পার্টস প্রস্তুতকারক, টায়ার-টিউব প্রস্তুতকারক, গ্লাস মার্চেন্টস, রাবার বাগান মালিক সমিতি, ইট প্রস্তুতকারক, পাদুকা, এসএমই ওনার্স, বিড়ি শিল্প, অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিল এবং পাইপ অ্যান্ড টিউব মার্চেন্টস ও সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় এনবিআর ও এফবিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
