ঢাকা উত্তর সিটির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা। এলাকার প্রধান সংকট ‘পানি’। বেশিরভাগ সময় পানির জন্য হাহাকার লেগে থাকে। আর প্রার্থীরা এই দুই ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে চুপেসারে সেরে নিচ্ছেন প্রচারণা। এই এলাকার বাসিন্দারা বলেছেন, আমাদের ভালোতে-মন্দতে যাদের কাছে পাবো তাদেরকেই কাউন্সিলর হিসাবে দেখতে চাই।
একটু পেছনে ফেরা যাক। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডটি আগে ছিল ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী একটি ওয়ার্ড এটি। এখানে রয়েছে ঢাকার পুরার্কীতির অন্যতম সাত গম্বুজ মসজিদ। মোহাম্মদপুর থানার অন্তর্ভুক্ত এই ওয়ার্ডের আয়তন ৩ বর্গ কিলোমিটার। এই ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলো হলো- বসিলা, ওয়াছপুর, পূর্ব কাটাসূর, পশ্চিম কাটাসূর, জাফরাবাদ (একাংশ), বাঁশ বাড়ি, মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটি, চাঁদ মিয়া হাউজিং, আলী ও নূর রিয়েল এস্টেট, লতিফ রিয়েল এস্টেট, কাদিরাবাদ হাউজিং।
ইতিমধ্যে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ১১ জন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীই বেশি। প্রার্থীরা হলেন-সাবেক কমিশনার ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম অহিদুর রহমান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এম. এ হালিম বাদশাহ, যুবলীগ নেতা তারেকুজ্জামান রাজিব, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: সাহাবউদ্দিন মুন্না, বিএনপি নেতা শুকুর মাহমুদ, আজিজুর রহমান লিটু ও এম এস আহমাদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সাঈদ বেপারী, মো: নুরুজ্জামান ও মো: শাহজালাল লুলু। এছাড়া এই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের ফারজানা হোসেন কলি ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ওয়ার্ডের মোট ভোটার ৬০ হাজার ৩৩৯ জন। পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৩২ হাজার ১২ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২৮ হাজার ৩২৭ জন। এছাড়া এই ওয়ার্ডের সিংহভাগ ভোটারের বাড়ি বরিশাল এবং ভোলা। জানা গেছে, এই দুই অঞ্চলের ভোটারদের রায় যার পক্ষে যাবে তারাই নির্বাচিত হবেন।
শেখ বজলুর রহমান বলেন, মানুষের কাজ করার জন্য কাউন্সিলর পদ সৃষ্টি হয়েছে। কাউন্সিলরের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য কাউন্সিলর। তাই ওয়ার্ডবাসীর কাছে আমার প্রতিশ্রুতি, সব সমস্যা তাদের পাশে থেকে সমাধানের চেষ্টা করব। তিনি বলেন, ওয়ার্ডের মানুষের সঙ্গে আমার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। নির্বাচনের পরও তাদের কাছে যাব।
এম এ হালিম বাদশা বলেন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। সেটা নিশ্চিত করতে যা করণীয় তাই করব। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে ওয়ার্ডবাসীর জন্য সুপেয় পানি, সড়ক বাতি ও রাস্তা-ঘাট সংস্কারের প্রয়োজন অনুভব করেছি। এবার নির্বাচিত হলে সরকারের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে সচেষ্ট হবো।
