লভ্যাংশ দেয়া শুরু হলেও পুঁজিবাজারে মন্দা কাটেনি

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৫, ০০:০৭

পুঁজিবাজার ধসের পর গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজার উন্নয়নে নানা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়া হলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা কাটেনি। এর মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাই বাজারে লেনদেন হচ্ছে খুবই কম। সূচক রয়েছে নিম্নমুখী ধারায়। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বাত্সরিক লভ্যাংশ দিতে শুরু করলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির আর্থিক হিসাব-বছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় লভ্যাংশ ঘোষণা। এরপর মার্চ ও এপ্রিলে লভ্যাংশ দেয়া চলতে থাকে। সাধারণত জানুয়ারি থেকে বাজারের লেনদেন ও সূচক বাড়তে থাকে। কিন্তু এ বছর তার ব্যত্যয় ঘটেছে।

ডিএসইর তথ্যে দেখা গেছে, জানুয়ারির শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ছিল ৪ হাজার ৯৬৯ পয়েন্ট। গতকাল তা সাড়ে চার হাজারের নিচে নেমে এসেছে। তিন মাসে এ সূচক ৪৯৭ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৪৭২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক জানুয়ারিতে ছিল ১৫ হাজার ১৪২ পয়েন্ট। যা বর্তমানে ১ হাজার ৪৬৪ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৬৭৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন। অনেকেই বিনিয়োগ না করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। এতে বাজারের সূচক ও লেনদেন কমে গেছে।
বিএসইসির কর্মকর্তারা বলছেন, গত চার বছর ধরে বাজারের উন্নয়নে নানা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়া হলেও বাজারে আশানুরূপ লেনদেন বাড়েনি। ২০১৪ সালে ডিএসইতে দুুটি মূল সংস্কারমূলক কাজ হয়েছে। একটি হলো ডিমিউচুয়ালাইজেশন (স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা পৃথকীকরণ)। আরেকটি হলো স্বয়ংক্রিয় লেনদেন পদ্ধতি। ২০১৩ সালে ডিমিউচুয়ালাইজেশন অনুমোদন করা হলেও ডিমিউচুয়ালাইজড ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদ গঠন হয়েছে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তবে এখনও ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্ধারণ ও তাদেরকে ২৫ শতাংশ শেয়ার দেয়ার কাজ হয়নি। আর স্বয়ংক্রিয় লেনদেনের নতুন সফটওয়্যার চালুুর ফলে ডিএসই’র প্রযুক্তিগত সামর্থ্য বেড়েছে। এতে অডলট সংক্রান্ত সমস্যা দূর করা সম্ভব হয়েছে। এখন বিনিয়োগকারীরা ১টি শেয়ারও কেনাবেচা করতে পারছেন। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় লেনদেন চালুর ফলে বাজারে সিকিউরিটিজ ও ডেরিভেটিবস প্রোডাক্টস চালু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২০১৪ সালে ডিএসইতে নতুন সার্ভিল্যান্স সফটওয়ার স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। সিএসইতেও ডিমিউচুয়ালাইজেশন, সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার এবং স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বাজারের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে এসব পদক্ষেপ নেয়ার পরও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা কাটেনি। এছাড়া ডিএসইতে টি প্লাস টু স্যাটেলমেন্ট সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। এতে লেনদেনের সময়সীমা ৪ দিনের পরিবর্তে কমে ৩ দিন হয়। এই সিস্টেম চালুর পরও লেনদেনে গতি ফেরেনি। তাছাড়া আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে কোম্পানি তালিকাভুক্তি হওয়ার সময় কমিয়ে আনার প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। এখন বিনিয়োগকারীদেরকে ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আইপিও আবেদন জমা দিতে হয় না। তাছাড়া রিফান্ড প্রক্রিয়াও দ্রুত হচ্ছে।

ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে কয়েকদিন এক হাজার কোটি টাকা লেনদেন হলেও বেশিরভাগ সময় লেনদেন হয়েছে তিনশ’ কোটি টাকারও নিচে। চলতি বছর কয়েকদিন লেনদেন তিনশ’ কোটি টাকার বেশি হলেও বেশিরভাগ সময়ই লেনদেন হয়েছে তিনশ’ কোটি টাকার নিচে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে নানা সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের পরও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা কাটেনি। এর বড় কারণ  হলো- রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বাজারের বিনিয়োগকারীদের সচেতনতার অভাব। বাজারে অনেক বিনিয়োগকারীই বিনিয়োগ করেন গুজবের উপর ভিত্তি করে। ফলে বাজার অনেক সময়ই সঠিক আচরণ করতে ব্যর্থ হয়।