কেনিয়ায় ভার্সিটিতে হত্যাযজ্ঞ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৫, ০০:১০

কেনিয়ার গারিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিহত শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগকেই হত্যা করা হয় মাথার পেছনে গুলি করে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকেই শিক্ষার্থীদের মাথা নিচু করে মাটিতে শুয়ে পড়তে বলে জঙ্গিরা। এরপর এক এক করে ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠী আল শাবাবের সদস্যরা হত্যা করে ১৪৭ জনকে। বৃহস্পতিবারের ঐ হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরো ৭৯ জন। আহতরা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। জিম্মিকারীরা বেছে বেছে মুসলিম শিক্ষার্থীদের মুক্ত করে দিয়ে অমুসলিমদের গুলিতে হত্যা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই সদস্যকে প্রথমেই গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। খবর বিবিসি ও সিএনএন’র। 

ঐ ঘটনার একদিন পরও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে এ্যাম্বুলেন্সে করে মৃতদেহ নেয়া হচ্ছিলো। এক চিকিত্সক জানান, নিহত শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগের মাথার পেছনের দিকে গুলি করা হয়েছে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসের একটি উপাসনালয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। সেখান থেকে তারা ক্যাম্পাসে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকে। পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। সব জায়গায় গোলাগুলি চলছিলো। জিম্মি করার পরই তারা আমাদের মেঝেতে শুয়ে পড়তে বলে। সেখান থেকে অনেকে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়। কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ কাইসারি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হামলায় অংশ নেয়া চার জঙ্গিই নিহত হয়েছে। পুলিশ প্রধান জোসেফ বোইনেট বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢোকার সময় থেকেই জঙ্গিরা এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ ও সেনারা ক্যাম্পাসটি ঘিরে সারাদিন হামলাকারীদের সাথে গোলাগুলি করলেও বারবার পিছু হটতে বাধ্য হয়। অবশেষে চার জঙ্গিকে গুলি করে হত্যা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
গারিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ দমনে কেনিয়াকে সহায়তায় প্রস্তুত জাতিসংঘ। হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। আল শাবাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেনিয়াকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তাও।

জঙ্গি দমনে কেনিয়া সোমালিয়াতে সেনা পাঠিয়েছিলো। ২০১৩ সালে নাইরোবিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পেছনেও আল শাবাবের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিলো। প্রতিশোধ নিতেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি আল শাবাবের।