ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানসহ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সমঝোতায় ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বীরোচিত সংবর্ধনা দিয়েছেন দেশটির নাগরিকরা। রাস্তায় তাদের উল্লাস প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। ওবামা যখন এই সমঝোতাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন তখন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার দেশের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও পশ্চিমা বিশ্ব হুঁশিয়ারি দিয়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন ও দ্য গার্ডিয়ানের।
নেতানিয়াহুর মুখপাত্র মার্ক রেগেভ এক টুইটার বার্তায় বলেন, শুক্রবার ওবামাকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, চুক্তির রূপরেখা বাস্তবায়ন হলে ইসরাইলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। টেলিফোনে নেতানিয়াহু ওবামকে বলেন, চুক্তির ফলে ইরান পারমানবিক বোমা তৈরির পথ থেকে সরে আসবে না, বরং ভয়াবহ যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়াবে। হোয়াইট হাউস জানায়, এয়াফোর্স ওয়ান থেকে টেলিফোনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপকালে ওবামা চুক্তির পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন। ইসরাইলের কর্মকর্তারা এর আগে চুক্তির রূপরেখাকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ এবং ‘বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। সমঝোতার খসড়ার ব্যাপারে তেহরান ও বিশ্বশক্তি সম্মত হলেও এর খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আরো আলোচনা চলবে। এরপর আগামী ৩০ জুনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্দিষ্ট হয়নি। আর এই চুক্তির কার্যকারিতা না থাকলে সব চেষ্টা ভেস্তে যেতে পারে। লুজানের বেউ-রিভেজ প্যালেস হোটেলে ছয় বিশ্বশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানির সঙ্গে ইরানের এ আলোচনা চলে। ৩১ মার্চ মঙ্গলবার আলোচনা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চুক্তির পথে আলোচনা অনেকদূর এগিয়ে যাওয়ায় সময় দুইদনি বাড়ানো হয়েছিল।
