অবরোধ-হরতালের মধ্যেই সিলেটে আবার পর্যটক আসা শুরু হয়েছে। এখানে হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) এর মাজার জিয়ারত ছাড়াও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করতে তারা ছুটে আসছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। দুই সপ্তাহ ধরে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। আগের মত ভিড় না হলেও বৃহস্পতি ও শুক্রবার বিশেষ করে মাজার এলাকায় অসংখ্য মানুষের ভিড় হয়। মাজার জিয়ারত শেষে তারা যাচ্ছেন সিলেটের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। ‘আর কত দম আটকে ঘরে বসে থাকা যায়,’ সিলেটে আসা অনেক পর্যটক এরকম মন্তব্য করে তারা বলেছেন, ‘দেশের উন্নতি ও মানুষের কল্যাণের জন্য যে কোন ধরনের হিংসাত্মক কর্মসূচি পরিহার করতে হবে।
সিলেটে ছড়িয়ে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর এম, এ, জি ওসমানী এ মাটিরই সন্তান। সিলেট নগরীর নাইরপুল আবাসিক এলাকায় তারই বাসভবনে স্থাপিত হয়েছে ওসমানী স্মৃতি যাদুঘর। জাফলং ছাড়াও মাধবকুন্ড, হামহাম জলপ্রপাত রয়েছে এই সিলেটেই। খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়ের মনোলোভা দৃশ্য, মনোমুগ্ধকর খাসিয়া পল্লী, জাফলংয়ের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, তামাবিল স্থলবন্দর, চেরাপুঞ্জির নিচে ভোলাগঞ্জে সাদাসাদা পাথরের স্তূপ, সবুজ চা বাগান, খাদিম ফরেস্ট, সুনামগঞ্জের রামসারভুক্ত টাঙ্গুয়া ও হাকালুকির হাওর, টেকের ঘাট, যাদুকাটা নদী, বারাইক্কা টিলা, শ্রীমঙ্গলে টি-রিসোর্ট, বিছনাকান্দি, পান্তুমাই ঝর্ণা, মাধবপুর লেক, গোলাপগঞ্জে শ্রীচৈতন্যের মন্দির, সিলেট ও সুনামগঞ্জে হাসন রাজার মিউজিয়াম, ডলুরা শহীদ মিনার, টিলাগড় ইকোপার্ক, ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়ি, ভিআইপি সার্কিট হাউজ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এমসি কলেজ ক্যাম্পাস, জকিগঞ্জে বরাক-সুরমা কুশিয়ারা তিন নদীর মোহনায় অমলসিদ, সবুজ পাহাড় আর স্বচ্ছ জলের বহমান ধারা লালাখালে পর্যটকদের পদভাড়ে মুখরিত হয়। এছাড়াও আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন নাজিমগড় রিসোর্ট, জাকারিয়া সিটি, ড্রিমল্যান্ড পার্ক, মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সাতছড়ি রেইন ফরেস্ট এবং গোয়াইনঘাটে রাতারগুল ফরেস্টে ঢল নামে ভ্রমণ পিপাসুদের।
