আইসিসির প্রস্তাব পেয়েছে বিসিবি

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৫, ১৩:৪৪

নিয়ম অনুযায়ী আইসিসি সভাপতি পদে এখন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বই থাকার কথা। কিন্তু আ হ ম মোস্তফা কামাল পদত্যাগ করায় সে পদ এখন শূন্য। তবে গতকাল বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বললেন, আইসিসি তার কাছে আপাতত অনানুষ্ঠানিকভাবে শূন্যপদে কারোর নাম চেয়েছে। কিন্তু এই অল্প সময়ের জন্য কেউ আদৌ রাজী হবেন কি না, রাজী হলে কে মনোনীত হবেন; তা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেনি বিসিবি।  এদিকে পাপনকে কথা বলতে হচ্ছে ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারেও। তিনি বলছেন, কামাল কাণ্ড ও কোয়ার্টার ফাইনাল বিতর্কের কোনো প্রভাব পড়বে না সম্পর্কে। কারণ, কামাল বা শ্রীনিবাসন; কেউই এখন যার যার বোর্ডের কেউ নন।

আইসিসি সভাপতি পদে আপনাদের কাছ থেকে নাকি নতুন কারো নাম চাওয়া হয়েছে?
এর আগের বার তারা বিসিবির কাছেই নাম চেয়েছিল এবারও তারা বিসিবির কাছে নাম চেয়েছে। তবে লিখিত এখনও আসেনি, আমাকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। এই এক বছর বাংলাদেশেরই সভাপতি হওয়ার কথা। সে অনুয়ায়ী প্রথম সুযোগ বাংলাদেশকেই দেয়া হবে।
যদি আপনাকে আইসিসির সভাপতি চাওয়া হয় তাহলে কী করবেন ?
এখানে দুটো বিষয়—গতবার কামাল সাহেবের নাম আমাদের সরকার থেকেই প্রস্তাব করা হয়েছিল। আগে সেটাই হতো। যখন আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে বোর্ডে আসলাম তখন একটু ভিন্ন পরিস্থিতি হয়ে গেল। তবে সরকারের কাছে তো আমাদের জানতেই হবে। তারপর এ ব্যাপারে বোর্ড মিটিংয়েই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে কামাল সাহেবের অবদান অনেক। তিনি আগে বিসিবির সভাপতি ছিলেন। উনি একটা জায়গা থেকে ফিরে এসেছেন, ওইখানে আরেকজন যাওয়া বেশ অস্বস্তিকর বিষয়। আমার কাছে আইসিসির চেয়ে বিসিবি অনেক বড়। যদি আইসিসির কারণে বিসিবি ছাড়তে হয় তাহলে সেটা আরেকটি সমস্যা। আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা দরকার, গঠনতন্ত্রে মেনে নেবে কী না। তবে আমার জানা মতে বিসিবি ছাড়তেই হবে। তবে আড়াই মাসের জন্য বিসিবি থেকে ছেড়ে যাওয়ার কারণ দেখি না। এছাড়া কামাল ভাইয়ের সঙ্গেও কথা বলা দরকার।
তাহলে আইসিসি সভাপতি পদে কার নাম পাঠাবেন? 
প্রথমে আমাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হবে। আগের বার তিনিই নির্বাচন করে দিয়েছিলেন। কেউ আবার আড়াই মাসের মধ্যে হতে চায় কীনা এটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জানতে হবে যদি কেউ হতে চায় তাহলে তাকে বর্তমান পদ ছেড়ে যেতে হবে কীনা। বিসিবি ও আইসিসির গঠনতন্ত্র কী বলে সেটা দেখতে হবে। কিন্তু এটা এতো তাড়াহুড়োর ইস্যু না। তিন-চারদিনের সব কিছু জেনে যাবো বলে আশা করছি।
ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নষ্টের একটা আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেখুন, কামাল যখন কথা বলেছেন তখন তিনি কিন্তু বিসিবির কেউ না। আর শ্রীনিবাসনও কিন্ু্ত এখন ভারতীয় বোর্ডে নেই। ফলে এর মধ্যে দুই বোর্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। যা হয়েছে তা আইসিসি নিয়ে। যারা আম্পায়ার ছিলেন তারাও তো কেউ ভারতীয় ছিলেন না। আমি আইসিসির পরবর্তী সভায় জানতে চাইবো কেন ওনাকে পুরস্কার দিতে দেয়া হল না। এটুকু অধিকার আমার রয়েছে। কিন্তু এমন কিছু করা যাবে না, যেটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর।
ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে হয়েছে কী না। আর ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বাড়ানো উচিত কী না?
আমাকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট ফোন করেছিলেন। আরও অনেকে ফোন করেছেন। নতুন গঠনতন্ত্রে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড সব সময় একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলেছি। কিছু সমস্যা হতে পারে, এমন আশংকা দূর করার জন্য যা যা করা দরকার তাই-ই করছি আমি। কামাল সাহেব যেটা করেছেন সেটাকে আমি ভুল বলছি না। ওনার জায়গায় আমি হলেও আমিও করতাম। উনি যেটা করেছেন তার সঙ্গে আমি একমত। কিন্তু তার জন্য আমাদের এফটিপি চলে যাবে এটা তো হয় না।
শ্রীনিবাসনের সঙ্গে কী কথা হল ?
উনি আসলে বিসিবি থেকে সভাপতির নাম চেয়েছেন। আর কিছু না।
বিসিবির ব্যাপারে শ্রীনিবাসনের মনোভাব কেমন?
এশিয়া কাপের আগে যখন পাকিস্তান ও শ্রীলংকা আসতে রাজি হচ্ছিল না তখন শ্রীনিবাসনই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। উনি বলেছিলেন পাকিস্তান না গেলেও আমরা যাবো। ওই সময়ে এশিয়া কাপ না হলে টি ২০ বিশ্বকাপও হয় না বাংলাদেশে। এরপর যখন আমাদের টেস্ট মর্যাদা নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল তখনও শ্রীনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তার একটা কথাতেই সব পরিবর্তন হয়ে যায়।
আইসিসির আম্পায়াররা নাকি আসতে চাচ্ছেন না?

এটা একটা সমস্যা ছিলো। আমাদের এখানে আইসিসির আম্পায়ার আসতে চাচ্ছে না। কাল (বৃহস্পতিবার) রাতের পর থেকে আমি একটু স্বস্তিতে আছি। বলা হচ্ছিল আম্পায়ারদের নিরাপত্তা নিয়ে। পাকিস্তান বলছে, আমাদের আম্পায়রা বাংলাদেশে যেতে ভয় পাচ্ছে। কারণ ওই ম্যাচে আম্পায়ার ছিলেন আলীম দার। আইসিসি থেকে আমাদের জানায়নি এমনটা নয়। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর এখানে আম্পায়ারদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবে কিছুটা উদ্বিগ্ন হতেই পারে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের ক্রিকেট যেমন ছিল তেমনই থাকবে, আমরা আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।