ব্যাপক ফললেও ন্যায্যদাম মিলছে না তরমুজের

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৫, ১৬:২৬

দক্ষিণাঞ্চলে এবার তরমুজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। তবে চাষিদের জন্য এ ফলন কোন সুখবর এনে দিতে পারেনি। কারণ গত বছর এ অঞ্চলের চাষিরা বিপুল টাকা অর্জন করলেও এবার তরমুজের মূল্য গত বারের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। ফলন দেখে মুখে হাসি ফুটলেও এখন প্রথম ধাপের তরমুজ বাজারে বিক্রি করতে এসে তাদের কপালে দুঃশ্চিন্তার রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার উপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে তরমুজ পাঠানোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই বাধ্য হয়ে চাষিরা সামান্য লাভেই বড় ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন তরমুজ।

কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ৩৫ হাজার ৬৯৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে আসা তরমুজ আগাম ফসল হিসাবেই ধরা হচ্ছে। আর এ পর্যন্ত কোন প্রকার বাধা বিপত্তি ছাড়াই চাষিরা তরমুজ ঘরে তুলতে পারছেন। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তারা বিপুল পরিমাণ তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন। তবে এবার মূল্য কম হওয়ার কারণে গত বছরের ন্যায় হয়তো তারা বিপুল টাকা মুনাফা অর্জন করতে পারবেন না।
দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে এবারও সবচেয়ে বেশি তরমুজ আবাদ হয়েছে পটুয়াখালী জেলায়। এ জেলায় ১৭ হাজার ৭৬২ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। এরপরই দ্বীপ জেলা ভোলার অবস্থান। এ জেলায় ১২ হাজার ৩০৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বরগুনায় ৪ হাজার ৮’শ হেক্টর, পিরোজপুরে ৩৪৯ হেক্টর, বরিশাল জেলায় ৩৬৪ হেক্টর ও ঝালকাঠীর ১৫ হেক্টর জমিতে এবার তরমুজ আবাদ হয়েছে। গত বছর ব্যাপক মুনাফা হওয়ায় এবার আরো বাড়তি জমিতে চাষিরা তরমুজ চাষ করেছেন। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও নিজেদের জমিতে পূর্বের গতানুগতিক ফসলের পরিবর্তে তরমুজ চাষ করেছেন। তবে যে স্বপ্ন নিয়ে তারা তরমুজ আবাদ করেছিলেন তার উত্পাদন দেখে খুশি হলেও বাজারে বিক্রির সময় সকলেই হতাশ হয়ে পড়েন। এমন তথ্য জানিয়েছেন চরফ্যাশন থেকে তরমুজ বিক্রি করতে আসা আবু জাফর পাটোয়ারী ও নোমান পাটোয়ারী।
বরিশাল নগরীর মত্স্য আড়তগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সেগুলো এখন তরমুজের দখলে। যেখানে ট্রলারে প্রতিদিন শত শত মণ ইলিশ আসতো, এখন সেখানে আসছে তরমুজ। ইলিশের মোকাম পরিণত হয়েছে তরমুজের মোকামে। পোর্টরোডের মত্স্য আড়তগুলো থেকে ইলিশের মতই তরমুজ ট্রাকে তুলে পাঠানো হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
চরফ্যাশন, দশমিনা, আমতলী, তালতলী ও বামনা থেকে তরমুজ ট্রলারে তুলে নগরীর পোর্টরোডস্থ মত্স্য আড়তে বিক্রি করতে নিয়ে আসা পাইকারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, গত বছর একশ তরমুজ তারা কৃষকের মাঠ থেকে কিনেছেন ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। এবার তার মূল্য প্রায় অর্ধেক। কারণ হিসাবে পাইকাররা জানান, নৌ-পথে তরমুজ নিরাপদে পরিবহন করা গেলেও সড়ক পথে পরিবহন করার মত যানবাহন পাওয়াই মুশকিল। ঝুঁকি নিয়ে কোন ট্রাকে পণ্য তোলা হলেও তার ভাড়া গুণতে হয় কয়েক গুণ। ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে থাকায় তরমুজের বাজার মূল্য কমে গেছে। তবে মৌসুম পুরো শুরু হওয়ার সাথে সাথে ভাল মানের তরমুজ বাজারে আসবে এবং তখন মূল্য বৃদ্ধি পাবে বলে ব্যবসায়ীদের ধারণা।
জানা গেছে, প্রতি হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করতে খরচ হয় ৮০-৮৫ হাজার টাকা। প্রতি হেক্টরে উত্পাদিত তরমুজ বিক্রি করে চাষিরা গত বছর পেয়েছেন প্রায় দেড় লাখ টাকা। এবার এখন পর্যন্ত পাচ্ছেন ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। তবে মূল্য বৃদ্ধি পেলে আর লোকসানের মুখে পড়তে হবে না বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

স্থানীয় কৃষি অফিসার জালাল উদ্দিন ও গোলাম মোস্তফা জানান, গত বছর প্রতি হেক্টরে তরমুজ উত্পাদন হয়েছে ৪০ টন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হবে। তাই তরমুজ চাষিদের লোকসানের মুখে পড়ার আশংকা খুবই কম।