ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র চূড়ান্তভাবে বাতিল হলে তার বিকল্প প্রার্থী কে হবেন-এ নিয়ে দলে নানা সমীকরণ চলছে। এক্ষেত্রে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে মাহী বি চৌধুরীকে বিবেচনায় রাখছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনে মিন্টুর আপিলের শুনানি হবে আজ শনিবার বিকালে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একধিক নেতা জানান,এই আপিল নিষ্পত্তির পরই দুই সিটিতে প্রার্থীর সমর্থন ঘোষণা করা হবে। ঢাকা দক্ষিণে মির্জা আব্বাসকে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে আছে। তবে মিন্টুর প্রার্থিতা না টিকলে বিকল্প হিসাবে বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী অধিকাংশ নেতার প্রথম পছন্দ।
মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়ালকে পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় রাখছেন তারা। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহে জানা যাবে। তফসিল অনুযায়ী ১০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ করবে কমিশন। তার আগেই সমর্থন ঘোষণা দিবে বিএনপি।
তাবিথ আউয়াল ইত্তেফাককে জানান,বিএনপির নেতারা বলেছেন, তারা আজকের আপিলের দিকে নজর রাখছেন। তিনি বলেন,আব্বাস প্রার্থিতা ফিরে না পেলে দল কাকে সমর্থন দিবে তা নিয়ে কেউ আমার সঙ্গে কথা বলেননি। সমর্থন না পেলেও আমি নির্বাচন করবো। আমার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
বিএনপির গুলশান অফিসে থাকা দলের একজন নেতা জানান,উত্তরের প্রার্থী নিয়ে খালেদা জিয়া দেশে এবং দেশের বাইরে থাকা দুই নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। মিন্টুর আপিলের নিষ্পত্তির পর প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। বিকল্প হিসেবে কাকে সমর্থন দেয়া হলে নির্বাচনের ফল ইতিবাচক হবে তা নিয়ে কথা বলছেন চেয়ারপারসন। নানামুখী হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে। ঐ নেতা বলেন, বিকল্প হিসাবে আলোচনা চলছে তাবিথ আউয়াল ও মাহী বি. চৌধুরীকে নিয়ে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে মাহী বিএনপি দলীয় এমপি ছিলেন। নানা ঘটনা ঘিরে পরবর্তী সময়ে তারা বিএনপি ছেড়ে বিকল্পধারা গঠন করেন। বিএনপি জোটে না থাকলেও সমমনা দল হিসেবে বিকল্পধারা দীর্ঘদিন ২০ দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে। সামপ্রতিক সময়ে বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার পাশে বারবার দাঁড়িয়েছেন বি চৌধুরী। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবাষির্কীসহ দলের অনেক অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথি হিসাবে যোগ দিচ্ছেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তাছাড়া মাহী যোগ্য সম্মান পেলে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপিতে ফিরতে চান এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।
দলের গুলশান অফিসের একটি সূত্র জানায়, মিন্টুর ছেলের চেয়ে মাহী বি চৌধুরীর পরিচিতি বেশি। বিএনপির বড় অংশটি চাচ্ছেন মাহীকে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে নতুন করে আলোচনা হতে পারে।
অপরদিকে তাবিথ আউয়াল রাজনীতির মাঠে একেবারেই নতুন। বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের কাছে তিনি পরিচিতও নন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, মাহী বি চৌধুরী ও তাবিথ আউয়ালকে নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনো দল থেকে কাউকে সমর্থন দেয়া হয়নি। জোটের সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এদিকে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন,সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের উচিত সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সমাপ্তির পর অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জাতিকে ভয়াবহ অনিশ্চয়তার হাত থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নিতে হবে। আর তাতে নেতিবাচক পন্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে উদ্ভূত যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশন তথা সরকার তার দায় থেকে অব্যাহতি পাবে না।
