আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৌরাত্ন্য অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। পুলিশ বাহিনীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র তুমি সংযত হও, জনবান্ধব হও।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি এ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সামপ্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাস এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।
ড. মিজানুর রহমান বলেন, সামপ্রতিক সংঘাতকে কোনভাবেই রাজনৈতিক সহিংসতা বলা যাবে না। এটা জঘন্যতম ফৌজদারি অপরাধ, সে বিবেচনায় একে নির্মূল করতে হবে। তা না হলে এটি রাজনীতি এবং রাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
তিনিবিলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর হওয়ার আহবান জানিয়ে জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনীতিবিদরা আইনের ঊর্ধ্বে চলে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, আপনি যদি রাজনীতি করেন তাহলে আইন আপনার জন্য প্রযোজ্য নয়। গ্রেফতারি পরোয়ানা ৩৮ দিন কেন, ৬০ দিনেও পৌঁছবে না।
এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, দেশে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এর পেছনে কাজ করছে দীর্ঘদিনের অগণতান্ত্রিক পরিবেশ। ফলে পুলিশসহ কোন প্রতিষ্ঠানই সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। ক্ষমতা কেন্দ্রীক রাজনীতি এ অগণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির পেছনে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, সন্ত্রাস কখনো জয়লাভ করে না। বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র নয়। আমরা সন্ত্রাসবাদের কাছে নতজানু হতে চাই না। পুলিশ কারো পক্ষে কাজ করছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন যে ঘটনা ঘটছে তা যদি আরেকটা সরকারের সময় ঘটে তখন পুলিশ একইভাবে দায়িত্ব পালন করবে, বসে থাকবে না। আইনতো একই, এখন যা প্রয়োগ হচ্ছে তখনও তা প্রয়োগ হবে। কোন সরকার ক্ষমতায় সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমরা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আলাউদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. মিজানুর রহমান, প্রধান আলোচক ছিলেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।
সেমিনারে দু’টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। ‘বাংলাদেশের সামপ্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাস ও মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান এবং ‘অগ্নিদগ্ধ ভিকটিমদের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক অপর প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক।
