তিন মাস পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৫, ২১:৫৪
 
 
তিন মাস পর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তালা খুলেছে। শনিবার রাত সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় নেতা-কর্মীরা সদলবলে প্রবেশ করেন সেখানে। চাবিতে মরিচা পড়ে যাওয়ায় তালা খুলতে দুই দফা চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে শেষে হেস্কো ব্লেড দিয়ে কেটে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
 
সন্ধ্যায় কয়েকজন সিনিয়র নেতার কার্যালয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেতে পারেননি।
 
অফিসে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীনের সঙ্গে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মনিরুজ্জামান, আমিরুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ছিলো ভুতুড়ে পরিবেশ।
 
আসাদুল করিম শাহিন বলেন, আমরা এখন থেকে নিয়মিত এ অফিসে কার্যক্রম চালিয়ে যাবো। সুষ্ঠু রাজনীতি করার ক্ষেত্রে সরকার আমাদের  বাধা দিবে না আশা করি।
 
এর  আগে গত বৃহস্পতিবার কার্যালয়ের সামনে থেকে সরকার পুলিশ প্রত্যাহার করে নেয়। চাবি বুঝিয়ে দেয়া হয় অফিস কর্মচারীদের কাছে।
 
বিএনপির পক্ষ থেকে  আসাদুল করিম শাহীন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পল্টন বিভাগের উপ-কমিশনার মো.আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অফিস খোলার অনুমতি দেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়,বিএনপির অফিস খুলতে কোন বাধা নেই। 
 
জানা যায়, ৩১ মার্চ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সঙ্গে বিএনপির সাত সদস্যর প্রতিনিধির এক বৈঠকে দলের পক্ষ থেকে সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য দলীয় কার্যালয় খুলে দেয়ার দাবি জানানো হয়। তার প্রেক্ষিতে তালা খোলার অনুমতি পেয়েছে বলে জানান বিএনপি নেতারা।
 
ৎপ্রসঙ্গত যে,গত ৩ জানুয়ারি রাতে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দলটির কার্যালয় থেকে আটক করে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই সময়ই মূল ফটকে তালা দিয়ে বিএনপি কার্যালয় সিলগালা করে দেওয়া হয়। সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল জোরদারের পাশাপাশি বাড়ানো হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিও।
 
 সর্বশেষ গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উত্তোলন করতে কার্যালয় ঢুকতে চাইলে পুলিশ অনুমতি দেয়নি বলে বিএনপির অভিযোগ। তবে পুলিশ বিএনপির এই অভিযোগ অস্বীকার করে।
 
ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ তালা দেয়নি। তবে কে তালা দিয়েছে সেটিও তারা জানেন না।
 
এছাড়া নেতাকর্মীদের কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। 
 
তিনদিন আগে এক অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, 'বিএনপি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তাদের নয়াপল্টনের অফিস খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের অফিসে কে তালা দিয়েছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিএনপির নয়াপল্টনের কার্যালয়ে কোনো তালা লাগানো হয়নি। তারা নিজেরাই তালা মেরেছে।