আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ তার দলের সব পর্যায়ের নেতারাই প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু সিটি নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার ফাঁদে পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিসভায় থাকা ১৪ দলের ডাকসাইটে সিনিয়র নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর পথ বন্ধ। কারণ বিধিমালার দফা ৬ এর উপ-দফা ১৪ (ক) তে উল্লেখ রয়েছে, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিপ হুইপ, হুইপ এবং সরকারের কোন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী বা তার সমপদমর্যাদা সম্পন্ন সরকারি সুবিধাভোগী কোন ব্যক্তি নির্বাচন পূর্ব সময়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। আচরণ বিধিতে প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ না থাকলেও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আচরণবিধিতে ‘মন্ত্রী’ বলতে প্রধানমন্ত্রীকেও বুঝানো হয়েছে। এই আচরণবিধি প্রণয়নের পর কোন প্রধানমন্ত্রী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি। এবারও পারবেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক ইত্তেফাককে বলেন, আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারি সুবিধাভোগী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী বা সমপদমর্যাদার কেউ প্রচারণা চালাতে পারবেন না। তবে বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে সরকারের সুবিধাভোগী কোন পদে আসীন নন। ফলে তিনি আচরণ বিধি মেনে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন ।
আচরণ বিধির কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, দলের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষা মন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান, আইন মন্ত্রী আনিসুল হক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্য মন্ত্রী ও মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলাম ছাড়াও জাতীয় পার্টি-জাপার চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ (মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত), সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ দলের অন্যান্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ওয়ার্কার্স পার্টির চেয়ারম্যান ও বেসরকারি বিমান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি ও তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রমুখ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। তারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার হলে তিনি কেবল তার ভোট প্রদানের জন্য উক্ত এলাকায় যেতে পারবেন।
সরকারি সুবিধাভোগী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীর মর্যাদা নেই-এমন ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্যরা প্রার্থীর পক্ষে পথসভা ও ঘরোয়া সভায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন।
আগামী ১০ এপ্রিল বৈধ প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা। আর আগামী ২৮ এপ্রিল তিন সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিধির দফা ৪ অনুযায়ী কোন প্রার্থী বা তার পক্ষে থেকে কোন ব্যক্তি ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখের ২১ দিন আগে কোন প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন না।
এদিকে, প্রচারণায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আইনে বেশকিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিধিনিষেধ হলো, জনগণের চলাচলের বিঘ্নসৃষ্টি করতে পারে এইরূপ কোন সড়কে প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে পথসভা করা যাবে না। পথসভার উদ্দেশ্যে কোন মঞ্চ তৈরি করা যাবে না। পোস্টার সাদা কালো রংয়ের হতে হবে। পোস্টারে ছাপানো ছবি সাধারণ পোর্টেট হতে হবে। কোন অনুষ্ঠান বা মিছিলে নেতৃত্বদান, প্রার্থনারত অবস্থা ইত্যাদি ভঙ্গিমার ছবি ছাপানো যাবে না। প্রার্থী নিজ ছবি ও প্রতীক ব্যতীত অন্য কোন নাম বা ছবি ছাপাতে কিংবা ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রার্থী প্রতীক ব্যবহার বা প্রদর্শনের জন্য একাধিক রং ব্যবহার করতে পারবেন না।