তিন মাস পর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তালা খুলেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে নেতা-কর্মীরা সেখানে প্রবেশ করেন। চাবিতে মরিচা পড়ায় দুই দফা চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে শেষে হেক্সো ব্লেড দিয়ে তালা কেটে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যায় কয়েকজন সিনিয়র নেতার কার্যালয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেতে পারেন নি।
অফিসে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীনের সঙ্গে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মনিরুজ্জামান, আমিরুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন নেতা-কর্মী। এ সময় বিদ্যুত্ না থাকায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ছিলো ভুতুড়ে পরিবেশ। আসাদুল করিম শাহীন বলেন, আমরা এখন থেকে নিয়মিত এ অফিসে কার্যক্রম চালিয়ে যাবো। সুষ্ঠু রাজনীতি করার ক্ষেত্রে সরকার আমাদের বাধা দিবে না আশা করি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার কার্যালয়ের সামনে থেকে সরকার পুলিশ প্রত্যাহার করে নেয়। চাবি বুঝিয়ে দেয়া হয় অফিস কর্মচারীদের কাছে। বিএনপির পক্ষ থেকে গতকাল আসাদুল করিম শাহীন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পল্টন বিভাগের উপ-কমিশনার মো.আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অফিস খোলার অনুমতি দেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিএনপির অফিস খুলতে কোন বাধা নেই।
প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি রাতে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দলটির কার্যালয় থেকে আটক করে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই সময়ই মূল ফটকে তালা দিয়ে বিএনপি কার্যালয় সিলগালা করে দেয়া হয়।
গ্রেফতার-তল্লাশী বন্ধ করুন:২০ দল
এদিকে গতকাল ২০ দলের পক্ষে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু এক বিবৃতিতে তিন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও বাসায় তল্লাশী বন্ধ করে নির্বাচন নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও উত্সবমুখর করার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনী মাঠে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি ক্রমাগত বিমাতাসুলভ আচরণ নির্বাচনী পরিবেশকে আরো বেশি মাত্রায় সন্দেহপ্রবণ ও কন্টকাকীর্ণ করে তুলেছে।
